নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ৫৫ হাজার দেশি পর্যবেক্ষক, মানতে হবে ইসির নির্দেশ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৩৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন দেশি পর্যবেক্ষককে অনুমতি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
ইসিতে নিবন্ধিত ৮১টি সংস্থার পক্ষ থেকে এসব পর্যবেক্ষক দায়িত্ব পালন করবেন। এদের মধ্যে ৭ হাজার ৯৯৭ জন কেন্দ্রীয়ভাবে এবং ৪৭ হাজার ৪৫৭ জন স্থানীয়ভাবে সংসদীয় আসনভিত্তিক পর্যবেক্ষণ করবেন।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ইসি সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে জানানো হয়, নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে প্রবেশে সুনির্দিষ্ট বিধি-নিষেধ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ভোটার এবং নির্বাচন কমিশনের অনুমোদিত পরিচয়পত্রধারীরাই কেবল কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন। স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের জন্য কমিশন অনুমোদিত ‘নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালা ২০২৫’ রয়েছে, যা যথাযথভাবে অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক।
পর্যবেক্ষকদের পরিচয়পত্র ও গাড়ির স্টিকার ইস্যুর জন্য একটি ওয়েব পোর্টাল (https://pr.ecs.gov.bd/) তৈরি করেছে ইসি। অনুমোদিত ৮১টি সংস্থার সকল পর্যবেক্ষককে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই পোর্টালে ব্যক্তিগতভাবে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে পর্যবেক্ষকগণ অনলাইন থেকেই তাদের কার্ড ও স্টিকার ডাউনলোড করে মুদ্রণ করতে পারবেন।
নির্দেশনা অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের কার্ড ও স্টিকার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জনসংযোগ শাখা থেকে এবং স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের আবেদন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার বা তার মনোনীত কর্মকর্তারা অনুমোদন করবেন। রিটার্নিং অফিসারদের ব্যবহারের জন্য পোর্টালে ইতোমধ্যে ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড তৈরি করে দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনি এলাকা ও ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে পর্যবেক্ষকদের বেশ কিছু কঠোর নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। পর্যবেক্ষকগণ কেন্দ্রে অবস্থানকালে তাদের পরিচয়পত্রটি সার্বক্ষণিকভাবে দৃশ্যমান অবস্থায় ঝুলিয়ে রাখবেন।
পর্যবেক্ষণকালে অবশ্যই ভোটারের ভোট প্রদানের অধিকারের প্রতি সচেতন থাকতে হবে এবং নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাজে যাতে কোনো বিঘ্ন না ঘটে সেদিকে বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে। পর্যবেক্ষকগণ নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় কোনোভাবেই হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না। ভোটকেন্দ্রের ভেতরে শুধু এমন জায়গায় স্বল্প সময়ের জন্য অবস্থান করা যাবে, যেখানে থাকলে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো বাধার সৃষ্টি হবে না। তবে কোনো অবস্থাতেই কোনো পর্যবেক্ষক ভোট প্রদানের গোপন কক্ষে প্রবেশ করতে পারবেন না।
আরো পড়ুন : ৭ লাখ ৬৬ হাজার প্রবাসীর ঠিকানায় পৌঁছেছে পোস্টাল ব্যালট
নীতিমালা অনুযায়ী, প্রত্যেক পর্যবেক্ষক তার কাজে কোনো স্বার্থের সংঘাত তৈরি হলে কিংবা অন্য কোনো পর্যবেক্ষকের অসঙ্গত আচরণ দেখলে তা নিজ সংস্থাকে অবহিত করবেন।
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহায়তার লক্ষ্যে সংবিধান, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি-বিধান পুরোপুরি অনুসরণ করতে হবে।
নির্বাচনি কর্মকর্তাদের কাজে হস্তক্ষেপ এবং কোনো প্রকার নির্বাচনি উপকরণ স্পর্শ বা অপসারণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
এছাড়া পর্যবেক্ষক যদি কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য বা প্রার্থীর সমর্থক হিসেবে চিহ্নিত হন, তবে তিনি দায়িত্ব পালনে অযোগ্য হবেন।
পর্যবেক্ষণের পুরো সময়জুড়ে সম্পূর্ণ পক্ষপাতহীনতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। কোনো প্রার্থী বা দলের পক্ষে বা বিপক্ষে কোনো চিহ্ন, প্রতীক বা পরিচয় বহনকারী পোশাক বা অন্য কিছু পরিধান বা প্রদর্শন করা যাবে না।
কোনো রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, এজেন্ট বা নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা সংস্থার কাছ থেকে কোনো উপহার গ্রহণ, ক্রয়ের চেষ্টা বা কোনো সুবিধা গ্রহণে উৎসাহিত হওয়া যাবে না। একইসঙ্গে নির্বাচন চলাকালীন মিডিয়ার সামনে এমন কোনো মন্তব্য করা যাবে না, যা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ব্যাহত বা প্রভাবিত করতে পারে।
