তুষারঝড়-তীব্র ঠান্ডায় বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র, ৩০ জনের মৃত্যু
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৫২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
তুষারঝড় ও ভয়াবহ শীতের দাপটে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এপি’র বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান।
টেক্সাস, লুইজিয়ানা, মিসিসিপি, নর্থ ক্যারোলাইনা, আরকানসাস, কানসাস, ম্যাসাচুসেটস ও টেনেসিসহ একাধিক অঙ্গরাজ্য থেকে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের রাজধানী নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি জানিয়েছেন, তার শহরেই গত দুই দিনে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে কয়েকজন সড়ক দুর্ঘটনা ও অন্যান্য দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। তবে অধিকাংশের মৃত্যু হয়েছে হাইপোথার্মিয়ায়। দীর্ঘ সময় তীব্র ঠান্ডার মধ্যে থাকলে শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়া, প্রচণ্ড কাঁপুনি, পানিশূন্যতাসহ যে সব জটিল শারীরিক উপসর্গ দেখা দেয়, সেগুলোর সম্মিলিত অবস্থাকেই হাইপোথার্মিয়া বলা হয়।
উত্তর মেরু অঞ্চল থেকে নেমে আসা হিমেল বাতাসের প্রভাবে চলতি সপ্তাহের শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম এই দেশটির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এলাকা বর্তমানে পুরু তুষারস্তরের নিচে চাপা পড়েছে।
আরো পড়ুন : গ্রিনল্যান্ড দখলের সিদ্ধান্তে অনড় ট্রাম্প
মার্কিন আবহাওয়া দপ্তর দেশটির ২০ কোটিরও বেশি মানুষের জন্য ‘কোল্ড অ্যালার্ট’ জারি করেছে। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যা প্রায় ৩৪ কোটি ৮৬ লাখ।
এদিকে ঝড়ো আবহাওয়া ও তীব্র শীতের কারণে হঠাৎ বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় অনেক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র অচল হয়ে পড়েছে। এর ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহে মারাত্মক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎ পরিষেবা পর্যবেক্ষণ সংস্থা পাওয়ার আউটেজ ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার পর্যন্ত বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ৬ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি বাড়িঘর বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে।
প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে স্কুলসহ অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত সেগুলো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া জনগণকে ঘরের বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
তীব্র শীত ও ঝড়ো আবহাওয়ার প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ বিমানবন্দরে বিমান চলাচলও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দেশটির বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, রোববার বিভিন্ন বিমানবন্দরে ১৭ হাজারেরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। সোমবারও বাতিল হয়েছে আরও ১০ হাজারের বেশি ফ্লাইট।
করোনা মহামারির পর এই প্রথম মাত্র দুই দিনে এত বিপুল সংখ্যক ফ্লাইট বাতিলের ঘটনা ঘটল যুক্তরাষ্ট্রে।
