মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত
ঝুঁকিতে প্রবাসীরা, রেমিট্যান্সে বড় ধাক্কার শঙ্কা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ মার্চ ২০২৬, ১২:৪১ পিএম
ফাইল ছবি
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানের ঝুঁকিতে পড়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত অবনতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। রেমিট্যান্স প্রবাহের ওপর নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার পর উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় শ্রমবাজার, বিমান যোগাযোগ ও কর্মসংস্থানে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে বড় শ্রমবাজারে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। কেউ কেউ সেখানে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেই টিকে থাকার চেষ্টা করছেন, আবার অনেকেই দেশে ফিরে আটকা পড়েছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের একটি ডাটাবেইজ তৈরি করে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা জরুরি। তা না হলে রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধাক্কার আশঙ্কা রয়েছে।
খাতাকলমে বিশ্বের ১৬৮টি দেশে বাংলাদেশ থেকে কর্মী গেলেও বাস্তবে কর্মসংস্থান অনেকটাই মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর। মোট অভিবাসনের প্রায় ৯০ শতাংশই সীমাবদ্ধ মাত্র পাঁচটি দেশে, যার মধ্যে সবচেয়ে বড় গন্তব্য সৌদি আরব।
বর্তমানে যুদ্ধের উত্তাপে অস্থির মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন সেখানে কর্মরত বাংলাদেশিরা। সামরিক হামলা-পাল্টা হামলার কারণে তাদের জীবন ও জীবিকা; দুটোই ঝুঁকির মুখে পড়েছে। অনেকে দেশে ফিরে এসেছেন, আবার নতুন করে কর্মী যাওয়া প্রায় বন্ধ। ফলে সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার এখন অনিশ্চয়তায়।
প্রবাসীরা বলছেন, যুদ্ধের কারণে হঠাৎ দেশে ফিরতে হলে বড় সংকটে পড়তে হবে। বিদেশে কাজ নেই, দেশে ফিরেও কাজ পাওয়া কঠিন হয়ে যাবে। এতে জীবিকা নির্বাহ কঠিন হয়ে পড়বে।
এই খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বিকল্প শ্রমবাজার না থাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের তথ্যভিত্তিক তালিকা তৈরি করে তাদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা গেলে ভবিষ্যতে তা কাজে লাগবে।
বায়রার সাবেক মহাসচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান বলেন, শ্রমবাজার এককেন্দ্রিক হয়ে গেছে। ইউরোপের দিকে কিছুটা ঝোঁক থাকলেও তা খুবই কম। তাই এই পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিয়ে শ্রমবাজারে বৈচিত্র্য আনতে হবে, যাতে একটি বাজারের ওপর চাপ কমে। যেসব প্রবাসী দেশে ফিরে এসেছেন, তাদের তালিকা তৈরি করলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া সহজ হবে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞ হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, যুদ্ধ স্বাভাবিক হলে পুনর্গঠনের কাজ শুরু হবে এবং তখন বিপুলসংখ্যক কর্মীর প্রয়োজন হবে। সে জন্য সরকার ও রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে আগেভাগেই প্রস্তুতি নিতে হবে।
এদিকে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, বিকল্প শ্রমবাজার না খুঁজে পেলে রেমিট্যান্সে বড় ধাক্কা লাগতে পারে। পাশাপাশি অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন শিকদার বলেন, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশের রেমিট্যান্সে এর প্রভাব পড়বে। তাই এখনই পরিকল্পনা নিতে হবে। বিশ্বে অনেক শ্রমবাজার থাকলেও দেশে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে না পারলে সেগুলো ধরা সম্ভব হবে না।
শ্রম, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, বৈশ্বিক চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলে শ্রমবাজার স্থিতিশীল করতে কাজ করছে সরকার। মালয়েশিয়া, জাপানসহ অন্যান্য শ্রমবাজারগুলো আবার সচল করার চেষ্টা চলছে। শ্রমিকদের দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ ও ভাষা শিক্ষার মতো কর্মসূচিও নেয়া হয়েছে।
সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত প্রবাসীদের সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখা হচ্ছে।
