কে এই দীনেশ ত্রিবেদী
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের সাবেক রেলমন্ত্রী, অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ এবং ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নেতা দীনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়। তিনি শিগগিরই দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে জানানো হয়েছে।
দীর্ঘ সময় পর ভারতের কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বাংলাদেশে হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন। সাধারণত এ পদে ক্যারিয়ার কূটনীতিকদের নিয়োগ দেওয়া হলেও এবার একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
দীনেশ ত্রিবেদীর জন্ম ১৯৫০ সালের ৪ জুন ভারতের নয়াদিল্লিতে। ৭৫ বছর বয়সী দীনেশ ত্রিবেদী ভারতের একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষা শেষে তিনি ব্যবসা ও বেসরকারি খাতে কাজ করলেও পরে সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে যুক্ত হন।
তার রাজনৈতিক জীবন দীর্ঘ ও বৈচিত্র্যময়। তিনি একসময় ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে যোগ দেন তৃণমূল কংগ্রেস-এ এবং দীর্ঘ সময় দলটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। ২০২১ সালে তিনি দল পরিবর্তন করে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-তে যোগ দেন।
তিনি ভারতের সংসদে একাধিকবার নির্বাচিত হয়েছেন এবং দীর্ঘদিন আইনপ্রণেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি লোকসভা ও রাজ্যসভা -দুই কক্ষেই সদস্য ছিলেন। এছাড়া তিনি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রী হিসেবে দীনেশ ত্রিবেদী ইউনাইটেড প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্স (UPA) সরকারের অধীনে রেলমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। রেলমন্ত্রী হিসেবে তার সময়কালে রেলভাড়া সংস্কারসহ বিভিন্ন উদ্যোগ রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দেয়।
সবশেষে, তিনি ভারতের কূটনৈতিক কাঠামোয় যুক্ত হয়ে বাংলাদেশে হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য মনোনীত হয়েছেন। তিনি বর্তমান হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হবেন। এর আগে প্রণয় ভার্মাকে বেলজিয়ামে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, একজন অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিকে এই দায়িত্ব দেওয়াকে দক্ষিণ এশিয়ায় কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ ও ভারতের পারস্পরিক সম্পর্কের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই নিয়োগকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
