রুমিন ফারহানা
গুগলে দুর্নীতিতে শীর্ষে রাজনীতিবিদরা, পরে আমলারা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ১১:২২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশে দুর্নীতিতে শীর্ষ পেশা নিয়ে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, আমি মন্ত্রণালয়ের এই দুর্নীতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সার্চ করে দেখছিলাম, গুগল কী বলে? বাংলাদেশের দুর্নীতিতে টপ মোস্ট পেশা দুটো, কোনটা? দেখলাম এক নম্বরে আছে রাজনীতিবিদদের নাম, দুই নম্বরে আছে আমলাদের নাম।
তিনি বলেন, কোনো রাজনীতিবিদ যখন পেশা হিসেবে লেখেন রাজনীতি, তখন আমি সঙ্গত কারণেই খুব অবাক হই। রাজনীতিবিদরা বেতন পান বা রাজনীতি করলে পয়সা উৎপাদন হয়, এটা সম্ভবত বাংলাদেশের মতো দেশেই সম্ভব; যে দেশটি ২০০৫ সাল থেকে শুরু করে ২০১০ পর্যন্ত টানা পাঁচ বছর দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।
তিনি আরো বলেন, আমরা বিগত সরকারের আমলে ছাগলকাণ্ড দেখেছি।
সোমবার (১৫ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটে ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা জানান।
রুমিন ফারহানা বলেন, এখানে ২০ কোটি ৭৮ লাখ টাকা মঞ্জুরের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। আমি প্রতীকী হিসেবে ৫০০ টাকা হ্রাস করার প্রস্তাব দিয়েছি।
তিনি বলেন, বালিশ দুর্নীতি দেখেছি, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের সময় যে ভয়াবহ দুর্নীতি হয়েছে, সেটাও দেখেছি। আমরা দেখেছি একজন পিয়ন কী করে ৪০০ কোটি টাকার মালিক হয় এবং হেলিকপ্টার ছাড়া চলাফেরা করতে পারে না বলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলেছিলেন। আমরা ব্যাংক থেকে লক্ষ-কোটি টাকার লোপাট দেখেছি। ভুয়া কোম্পানির নামে অর্থ আত্মসাৎ, ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি ইত্যাদি ইত্যাদি দেখেছি। ওভার ইনভয়েসিং, আন্ডার ইনভয়েসিং, হুন্ডি, ভুয়া রফতানি বিল মারফত টাকা কীভাবে দেশের বাইরে পাচার হয়েছে, আমরা দেখেছি। মেগা প্রজেক্ট, মেগা দুর্নীতি। আমরা দেখেছি নিয়োগ, পদোন্নতি এবং সরকারি কেনাকাটায় অনিয়ম। স্বাস্থ্যখাতে মিঠু সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যের কথাও কমবেশি আমরা জানি।
‘আর সে কারণেই আমাদের আশা ছিল যে ৫ আগস্টের পরে যখন নতুন বাংলাদেশের কথা হচ্ছে, তখন দুদককে নখদন্তহীন বাঘ থেকে আমরা একটা শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে পারব। অন্তর্বর্তী সরকার প্রস্তাব দিয়েছিল, অধ্যাদেশ তৈরি করেছিল। দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫। এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর একশ’র ওপর অধ্যাদেশ আইনে পরিণত হয়েছে। কিন্তু দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ আইন করা হয়নি। সরকারের নিয়তটা কী, তা এই দুর্নীতি দমন কমিশনকে নখদন্তহীন করে রাখার, এখান থেকে বের না হওয়ার উদাহরণ দিয়ে স্পষ্ট হয়ে যায়। এই সরকার আসলে দুর্নীতি দমন করার ব্যাপারে কতটুকু আন্তরিক।’
রুমিন বলেন, দুদককে শক্তিশালী করা হলে কেন সরকারগুলো ভয় পায়, কিছু কিছু আমরা বুঝি। সরকারে সরাসরি যুক্ত থাকে রাজনীতিবিদরা এবং পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকে আমলারা। সেই কারণেই দুর্নীতি দমন কমিশন যদি শক্তিশালী হয়ে যায়, তখন রাজনীতিবিদ এবং আমলাদের জন্য খুব ভালো খবর সেটি নয়। সে কারণেই ঠিক যেভাবে একটার পর একটা ভুয়া নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকার দুর্নীতি দমন কমিশনকে শক্তিশালী করেনি, একইভাবে আমরা দেখতে পাচ্ছি অভ্যুত্থান-পরবর্তী সরকারও দুর্নীতি দমন কমিশনকে শক্তিশালী করার ব্যাপারে মোটেও আন্তরিক নয়।
‘এমনকি দুর্নীতি দমন কমিশনের তিনজন সদস্য কারা কারা হবেন, এটাও সরকার ঠিক করে দেবে। যদিও অধ্যাদেশের মাধ্যমে যে আইনটি করা হয়েছিল, সেখানে বলা ছিল যে প্রেসিডেন্ট দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান নির্বাচন করবেন, বাকি সদস্যদের নির্বাচন করবে স্পিকার। সেটাও দলের হাতেই থাকত। কিন্তু সেইটুকু করার মতো সাহসও সরকার দেখাতে পারেনি’, যোগ করেন এই স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য।
