কোরবানি দিতে গিয়ে সারাদেশে অন্তত ৫৭৬ জন জখম
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ মে ২০২৬, ১০:১৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সারাদেশে কোরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটাকাটি করতে গিয়ে অসাবধানতাবশত অন্তত ৫৭৬ জন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে এই চিত্র উঠে এসেছে। আহতদের বেশিরভাগই ধারালো অস্ত্রের আঘাত ও পশুর লাথি-গুঁতোয় জখম হয়েছেন।
বিভিন্ন হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও প্রতিনিধিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায় যে, কোরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটাকাটি করতে গিয়ে আহতদের মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ১০০ জন, পঙ্গু হাসপাতালসহ রাজধানীর অন্যান্য হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ২৩০ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ২০০ জনের ওপর। এছাড়া, মৌলভীবাজারে ৫০ জন ও জামালপুরের ইসলামপুরে ১৬ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সারাদেশ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি আহতের ঘটনা ঘটেছে ঢাকা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়। রাজধানী ঢাকায় কোরবানি সংশ্লিষ্ট কাজ করতে গিয়ে ২৩০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। অন্যদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চিকিৎসা নিয়েছেন দুই শতাধিক মানুষ। এছাড়া মৌলভীবাজারে ৫০ জন আহত হয়েছেন এবং জামালপুরের ইসলামপুরে গরুর লাথি ও ছুরির আঘাতে ইমামসহ অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও চিকিৎসকদের বরাতে জানা গেছে, আহতদের অধিকাংশই কোরবানির পশুর মাংস কাটতে গিয়ে ধারালো ছুরি, দা ও অন্যান্য অস্ত্রের আঘাতে জখম হয়েছেন। অনেকের হাত ও পায়ে একাধিক সেলাই দিতে হয়েছে। এছাড়া গরু-মহিষ জবাইয়ের সময় প্রাণীর লাথি কিংবা চাপায় হাত-পা ভাঙাসহ বিভিন্ন ধরনের আঘাত পেয়েছেন অনেকে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শহরাঞ্চলের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় অভিজ্ঞতার অভাব ও অসাবধানতার কারণেই এসব দুর্ঘটনা বেশি ঘটেছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে মৌসুমি কসাই ও পরিবারের সদস্যরা পশু জবাই এবং মাংস কাটতে গিয়ে বেশি আহত হয়েছেন।
কোরবানির সময় ধারালো অস্ত্র ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন ও পশু নিয়ন্ত্রণে রাখা বিষয়ে প্রশাসন ও বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিলেও, প্রতিবছরই কোরবানির ঈদে পশুকে নিয়ন্ত্রণে আনা এবং মাংস কাটার সময় অসচেতনতার কারণে এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। এবারও ঈদের দিন সকাল থেকেই ঢামেকের জরুরি বিভাগে এমন আহতদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ঢাকাসহ সারাদেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পশু কোরবানি অনুষ্ঠিত হয়। দুপুরের মধ্যেই অধিকাংশ স্থানে কোরবানি সম্পন্ন হয়।
