×

জাতীয়

ইসলামী ব্যাংক ইস্যুতে উত্তাল সংসদ

আবারো কি এস আলমে ফিরতে পারে মালিকানা?

Icon

মো. নাজমুল হাসান, ভোরের কাগজ

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১১:১২ পিএম

আবারো কি এস আলমে ফিরতে পারে মালিকানা?

ছবি : সংগৃহীত

দেশের শীর্ষ বেসরকারি ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিকে ঘিরে মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে তুমুল বিতর্ক হয়েছে। ব্যাংকটির মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে সরকারি ও বিরোধীদলের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের মাঝে বিভিন্ন মন্তব্য ও স্পিকারের বাধার কারণে বেশ কয়েকবার উত্তাল হয়ে ওঠে সংসদ অধিবেশন।

মঙ্গলবার (৯ জুন) বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের ৬৮ বিধিতে উত্থাপিত নোটিশকে কেন্দ্র করে এই বিতর্ক শুরু হয়, যা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে সংসদে উত্তাপ ছড়ায়। বিরোধীদলীয় নেতা নোটিশে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার প্রকৃত মালিকদের কাছে ফেরত দেওয়া এবং ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় সব ধরনের অনভিপ্রেত হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবি জানান।

মূলত সম্প্রতি ব্যাংকটিতে নতুন করে এস আলম গ্রুপের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত একজন ব্যক্তিকে চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ এবং ব্যাংক রেজল্যুশন আইন সংশোধনের মাধ্যমে সেই এস আলম গ্রুপকে আবারও ব্যাংকটির মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলে দেশজুড়ে যে আলোচনা চলছে এবং সে কারণে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের মধ্যে যে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে, তারই ঢেউ যেন এসে আছড়ে পড়ে সংসদ অধিবেশনে।

জাতীয় সংসদে এদিন ইসলামী ব্যাংক ইস্যু নিয়ে বিতর্কটি এতটাই তীব্র হয় যে, একপর্যায়ে ২০২৬ সালের ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের ১৮(ক) ধারা বাতিলের দাবিও উঠে আসে, যা বিতর্কিত মালিকদের ফিরে আসার পথ খুলে দিতে পারে বলে অর্থনীতি বিশেষজ্ঞরাও বিভিন্ন সময়ে মত দিয়েছেন।

বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে আবারও একটি ‘দখলদার চক্র’ সক্রিয় হওয়ার অভিযোগ তোলেন। দেশের সর্ববৃহৎ এই ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্সের একটি বড় অংশ আসে উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করে দেন, ব্যাংকটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেশের অর্থনীতি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তিনি দাবি করেন, ২০১৬ সালে ব্যাংকটি মাত্র ৪ শতাংশ খেলাপি ঋণ রেখে ৪৪৭ কোটি টাকার বেশি মুনাফা অর্জন করলেও পরবর্তীতে কৃত্রিম হস্তক্ষেপ ও অনিয়মের কারণে ব্যাংকটির অবস্থার অবনতি ঘটে। ২০২৪ সালের মধ্যে খেলাপি ঋণ মোট বিনিয়োগের প্রায় ৫১ শতাংশে পৌঁছেছে বলে তিনি সংসদকে জানান।

সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকটি ঘুরে দাঁড়ানো শুরু করলেও আবারও চেয়ারম্যান পদে ‘বিতর্কিত’ ব্যক্তিকে নিয়োগ দিয়ে এবং ব্যবস্থাপনায় অযৌক্তিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন শফিকুর রহমান।

এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিরোধীদলীয় নেতাকে পুরো নোটিশ পড়তে না দিয়ে বক্তব্য সীমিত করে দিলে সংসদে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

এ পর্যায়ে বিরোধী উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহির সাম্প্রতিক পরিচালনা পর্ষদ ও শীর্ষ পদে পরিবর্তনের সমালোচনা করে দাবি করেন, বিতর্কিত ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে। তিনি স্পিকারের ‘নিরপেক্ষতা’ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং ইসলামী ব্যাংক জামায়াতে ইসলামীর মালিকানাধীন নয় বলেও স্পষ্ট করেন।

জামায়াতের আরেক এমপি সাইফুল আলম খান মিলন অভিযোগ করেন, অনিয়ম ও ঋণখেলাপির রেকর্ড থাকা ব্যক্তিকে ব্যাংকের চেয়ারম্যান করা হয়েছে এবং ব্যাংকের অনেক এটিএম বুথে নগদ টাকার সংকট রয়েছে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ‘ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়’ মন্তব্য করে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত ঘটান। ‘সবকিছুতে ইসলামের ওপর হাত দেবেন না, দোহাই দেওয়া কিন্তু ঠিক নয়’ -মন্তব্য করে তিনি ধর্মীয় আবেগ ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন। তিনি বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, মির্জা ফখরুল ইসলামও ইসলাম নয়, জামায়াতে ইসলামও ইসলাম নয়।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, একদল লোক পর্দার আড়ালে থেকে গ্রাহকের ছদ্মবেশে ব্যাংকে অস্থিরতা তৈরি করছে। একবার দখল করা ব্যাংক বেদখল হয়ে যাওয়ার ‘যন্ত্রণা’ জামায়াত বুঝতে পারছে বলেও ইঙ্গিত দেন।

তিনি আরো জানান, ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে পুরো পরিচালনা পর্ষদ পরিবর্তনের পূর্ণ ক্ষমতা বাংলাদেশ ব্যাংকের রয়েছে। ‘যদি আপত্তি থাকে, আইন সংশোধনের মাধ্যমেই তা সমাধান করতে হবে,’ বলেন তিনি।

এ সময় নাবিল গ্রুপসহ বড় অঙ্কের টাকা ফেরত না দেওয়া প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্তের ঘোষণা দেন এবং বৈধ শেয়ারহোল্ডারদের কাছে শেয়ার ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংসদকে আশ্বস্ত করেন।

বিতর্কে অংশ নিয়ে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী অভিযোগ করেন, ইসলামী ব্যাংককে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিপদে ফেলে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চাওয়া হচ্ছে। ‘বিশ্বে এমন কোনো নজির নেই যে, একজন চেয়ারম্যান পরিবর্তনের কারণে গ্রাহকরা টাকা তুলে নিচ্ছেন,’ তিনি বলেন।

ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে বাস্তব চিত্র তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী জানান, সাম্প্রতিক দুই বছরের মুনাফা ছিল ‘উইন্ডো ড্রেসিং’ মাত্র। ২০২৫ সালের শেষে ব্যাংকটির শ্রেণিকৃত ঋণ ৯৪ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা মোট ঋণের ৫১ শতাংশ। ফলশ্রুতিতে ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকেই ব্যাংকটি প্রায় ২৬৮ কোটি টাকা লোকসান করেছে বলে তিনি সংসদকে তথ্য দেন।

এক কথায়, ব্যাংকটিকে ‘ফেল’ করিয়ে কেউ রাজনৈতিক সুবিধা নিতে চাইছে। বিএনপি সরকারের অধীনে ইসলামী ব্যাংক নিরাপদ থাকবে বলেও আশ্বস্ত করেন অর্থমন্ত্রী।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে ইসলামী ব্যাংকের দিলকুশা প্রধান কার্যালয়ের সামনে টানা নবম দিনের মতো বিক্ষোভ চলছে, যাতে ব্যাংকটির বিপুল সংখ্যক নারী গ্রাহকও যোগ দিয়েছেন। গ্রাহকদের দাবি, অনিয়মের অভিযোগ থাকা ব্যক্তিকে চেয়ারম্যান করা যাবে না।

এই অস্থিরতার জের ধরে মাত্র এক সপ্তাহেই ব্যাংকটি থেকে পাঁচ হাজার কোটি টাকা উত্তোলন করেছেন আতঙ্কিত গ্রাহকরা। বিরোধীদলীয় নেতার দাবি, মাত্র এক দিনেই প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতি সামাল দিতে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকা ঋণ চেয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

শিল্পকলা প্রদর্শনী ‘অন্তর্লোকের সন্ধানে’ শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার

শিল্পকলা প্রদর্শনী ‘অন্তর্লোকের সন্ধানে’ শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার

বাংলাদেশের কাছে হারের কারণ জানালেন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক

বাংলাদেশের কাছে হারের কারণ জানালেন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক

আবারো কি এস আলমে ফিরতে পারে মালিকানা?

ইসলামী ব্যাংক ইস্যুতে উত্তাল সংসদ আবারো কি এস আলমে ফিরতে পারে মালিকানা?

উত্তরায় ক্যাসিনো নির্মূলে সাঁড়াশি অভিযানে ডিএমপি

ফলোআপ উত্তরায় ক্যাসিনো নির্মূলে সাঁড়াশি অভিযানে ডিএমপি

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App