বেনজীরের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশে যা ছিল
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:৩৪ পিএম
ফাইল ছবি
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় রেড নোটিশ জারির পর বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার (১২ জুন) সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) পুলিশ বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করে। তাকে দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এবং আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল। গত বছরের এপ্রিল মাসে এই নোটিশ জারি করা হয়।
এর আগে ঢাকার সিনিয়র বিশেষ জজ আদালত ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পরোয়ানা কার্যকর করতে পরবর্তীতে বিষয়টি ইন্টারপোলের কাছে পাঠানো হয়।
রেড নোটিশে তাকে বিচারের জন্য পলাতক আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। একইসঙ্গে তাকে বিপজ্জনক এবং তার পালিয়ে যাওয়ার উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, আহমেদ বেনজীর ১৯৬৩ সালের ১ অক্টোবর গোপালগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশের নাগরিক এবং বর্তমানে বিচারের জন্য পলাতক হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছেন। ইন্টারপোলের ওই নোটিশে তার পরিচিতি, পাসপোর্ট সংক্রান্ত তথ্য এবং মামলার বিবরণও উল্লেখ করা হয়।
নোটিশে বলা হয়, তার বিরুদ্ধে অর্থ পাচার, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ রয়েছে।
দুদকের তদন্তের বরাত দিয়ে বলা হয়, আহমেদ বেনজীর বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। তদন্তে দেখা গেছে, তিনি প্রায় ১১ কোটি ৪২ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের চেষ্টা করেছেন। এর মধ্যে অন্তত ২ কোটি ৮২ লাখ টাকার সম্পদ সম্পূর্ণভাবে আড়াল করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
তদন্তে আরও বলা হয়, নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে বৈধ আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করা হয়েছে।
তিনি প্রায় ৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের মালিকানা ও ভোগদখলে রয়েছেন। এসব অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারার আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অবৈধ আয়ের একটি অংশ বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
