১০০০ ও ৫০০ টাকার নোট বাতিলের দাবি সংসদে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০২:০২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
জাতীয় সংসদে ৫০০ ও ১,০০০ টাকার নোট বাতিলের প্রস্তাব তুলেছেন সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। কালো টাকার প্রবাহ রোধ, অর্থপাচার নিয়ন্ত্রণ এবং অপ্রদর্শিত অর্থ ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফিরিয়ে আনতেই তিনি এ দাবি জানান। একই সঙ্গে দেশে ব্যাংকের সংখ্যাও কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন মাহবুব উদ্দিন খোকন।
ব্যারিস্টার মাহবুব বলেন, বর্তমানে অনেকেই ব্যাংকে টাকা না রেখে বাসাবাড়িতে নগদ অর্থ সংরক্ষণ করছেন। এছাড়া দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া অনেক ব্যক্তির কাছেও বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ রয়েছে। তাই এক থেকে দুই মাসের মধ্যে ৫০০ ও ১,০০০ টাকার নোট ব্যাংকে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলে সেই অর্থ আবার ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফিরে আসবে।
আরো পড়ুন : হাবিবুর রহমানসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড
ব্যারিস্টার খোকনের মতে, যাদের কাছে অপ্রদর্শিত অর্থ রয়েছে এবং বৈধ আয়ের উৎস দেখানোর সুযোগ নেই, তাদের ২০ থেকে ২৫ শতাংশ কর পরিশোধের মাধ্যমে সেই অর্থ বৈধ করার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। এতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যাংকে ফিরবে, বিনিয়োগ বাড়বে এবং অর্থনীতিতে অর্থের প্রবাহও বৃদ্ধি পাবে।
মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, দেশের প্রয়োজনের তুলনায় বর্তমানে ব্যাংকের সংখ্যা অনেক বেশি। শুধু প্রভাবশালী ব্যক্তি বা সংসদ সদস্য হলেই ব্যাংক বা লিজিং কোম্পানি প্রতিষ্ঠার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। জনগণের অর্থ ব্যয় করে দুর্বল ব্যাংক টিকিয়ে রাখার পরিবর্তে ব্যাংকের সংখ্যা কমিয়ে খাতটিকে আরো কার্যকর ও শক্তিশালী করা উচিত।
অর্থপাচারের প্রসঙ্গ তুলে মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার কথা বারবার বলা হলেও এ ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।
তিনি বলেন, অর্থ যেখানে নিরাপদ মনে হয়, সেখানেই চলে যায়। তাই পাচার হওয়া অর্থ ফেরানোর উদ্যোগের পাশাপাশি দেশে এমন আর্থিক ও আইনি পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে মানুষ দেশের ভেতরেই তাদের অর্থ রাখতে আস্থা পায়।
ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের এ প্রস্তাব ভারতের ২০১৬ সালের নোট বাতিলের সিদ্ধান্তের বিষয়টি আবারও আলোচনায় নিয়ে এসেছে। ওই বছরের ৮ নভেম্বর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৫০০ ও ১,০০০ রুপির নোটের আইনগত বৈধতা বাতিলের ঘোষণা দেন। সে সময় এই দুটি মূল্যমানের নোট দেশটির মোট প্রচলিত নগদ অর্থের প্রায় ৮৬ শতাংশ ছিল।
