প্রধানমন্ত্রী
কৃষিতে স্মার্ট প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াচ্ছে সরকার
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তি ও যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে দেশের কৃষিকে প্রযুক্তিনির্ভর, লাভজনক ও টেকসই খাতে রূপান্তরে সরকার নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ডিজিটাল কৃষি ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, স্মার্ট প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং জলবায়ু-সহিষ্ণু কৃষি উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের কৃষিকে আরও আধুনিক ও উৎপাদনশীল করা হবে।
মঙ্গলবার (৮ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষিকে সনাতনী ও শ্রমনির্ভর ব্যবস্থা থেকে বের করে গবেষণা, উদ্ভাবন, আধুনিক প্রযুক্তি ও যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর, প্রতিযোগিতামূলক, লাভজনক ও টেকসই খাতে পরিণত করতে সরকার বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিয়েছে।
তিনি জানান, কৃষি ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে কৃষক নিবন্ধন, কৃষক ডাটাবেজ, ডিজিটাল কৃষিসেবা, মোবাইলভিত্তিক আবহাওয়ার তথ্য, বাজারদর, কৃষি পরামর্শ, ই-এক্সটেনশন সেবা এবং অনলাইন কৃষিসেবা প্ল্যাটফর্ম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারি সেবা সরাসরি কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর আওতায় দেশের প্রায় ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষককে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি জানান, উৎপাদন ব্যয় কমানো, শ্রম সংকট মোকাবিলা এবং কৃষিকে আরও লাভজনক করতে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।
সংসদ নেতা বলেন, কৃষিতে রিমোট সেন্সিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি), ড্রোন, জিপিএস, স্যাটেলাইট তথ্য এবং বিগ ডাটা ব্যবহারের পরিধি বাড়াতে সরকার কাজ করছে। এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে ফসলের বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ, রোগবালাই শনাক্তকরণ, সুনির্দিষ্ট সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা এবং উৎপাদন পরিকল্পনা আরও বিজ্ঞানভিত্তিক ও কার্যকর হবে।
তিনি বলেন, তথ্যনির্ভর প্রিসিশন অ্যাগ্রিকালচার চালুর মাধ্যমে উৎপাদন খরচ কমিয়ে কৃষকের আয় বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নিরাপদ, সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করতে কৃষি খাতকে আরও আধুনিক ও টেকসইভাবে গড়ে তোলা হবে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, কৃষকদের জন্য ‘খামারি অ্যাপ’ চালু করা হয়েছে। এই অ্যাপের মাধ্যমে কোন এলাকায় কোন সময়ে কোন ফসল উপযোগী, কী পরিমাণ সার প্রয়োজন এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাসসহ বিভিন্ন কৃষি পরামর্শ সহজেই পাওয়া যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে জৈব সার, বায়োফার্টিলাইজার এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কৃষিকে জলবায়ু-স্মার্ট ও অভিযোজনক্ষম খাতে রূপান্তরের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
