শেখ হাসিনা দেশত্যাগের আগের কললিস্টে উঠে এলো নতুন তথ্যে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৬:২৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর ৫ আগস্ট দেশত্যাগের আগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফোনালাপ ও যোগাযোগ নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। একটি গণমাধ্যমের কললিস্ট বিশ্লেষণভিত্তিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দেশ ছাড়ার আগে এবং ভারত পৌঁছানো পর্যন্ত তিনি রাজনৈতিক, প্রশাসনিক, সামরিক ও পারিবারিক পর্যায়ের একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করেছিলেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৪ আগস্ট দেশের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার পর শেখ হাসিনা কয়েকজন মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেন। একটি অডিও কথোপকথনে তাকে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের পরিকল্পনার কথা বলতে শোনা যায়। একই সঙ্গে তিনি সেনাপ্রধানকে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।
কললিস্ট বিশ্লেষণে আরও দাবি করা হয়েছে, ৪ আগস্ট রাতে শেখ হাসিনা তৎকালীন মুখ্য সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া এবং সামরিক বাহিনীর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলেন।
৫ আগস্ট ভোর থেকে তার ব্যবহৃত ফোন নম্বরে ধারাবাহিক যোগাযোগের তথ্য পাওয়া যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই দিন তিনি তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, ব্যবসায়ী নেতা সালমান এফ রহমানসহ কয়েকজন বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেন বলে দাবি করা হয়েছে।
এছাড়া দেশত্যাগের আগে ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, প্রেস উইংয়ের সদস্য, নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং পরিবারের সদস্যদের ফোন ব্যবহার করেও কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কললিস্টের তথ্যে আরও বলা হয়েছে, এক সামরিক কর্মকর্তার সঙ্গে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কয়েক দফা যোগাযোগ হয়। এমনকি বিমানে ওঠার পরও ওই কর্মকর্তা এবং মেয়ে সায়মা ওয়াজেদের সঙ্গে শেখ হাসিনার শেষ দিকের ফোনালাপ হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
তথ্যপ্রযুক্তিবিদ ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কৌঁসুলি তানভীর হাসান জোহা বলেন, ৩ আগস্ট থেকেই কয়েকটি নম্বর থেকে ভারতের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। তার দাবি, নম্বরগুলো শনাক্ত করা হলেও সংশ্লিষ্ট কথোপকথনের তথ্য ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হয়নি। বিষয়টি কী কারণে অনুপস্থিত, তা নিয়ে আরও তদন্তের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ভারত পৌঁছানোর পর শেখ হাসিনা দেশটির তিনটি পৃথক নম্বরে যোগাযোগ করেন। পুরো দেশত্যাগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক, প্রশাসনিক, সামরিক এবং পারিবারিক পর্যায়ের বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য কললিস্টে উঠে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
আইনজ্ঞ ও বিশ্লেষকদের মতে, দেশত্যাগের আগে ও পরে সংঘটিত ঘটনাগুলো এবং সংশ্লিষ্ট যোগাযোগের প্রকৃত চিত্র জানতে আনুষ্ঠানিক তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
