যে মারাত্মক ভুলে ভারতের কাছে হারল বাংলাদেশ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
শেষ বলে সেঞ্চুরির জন্য শেফালি ভার্মার প্রয়োজন ছিল মাত্র ১ রান, আর ভারতের দলীয় সংগ্রহ ২০০ ছোঁয়ার জন্য দরকার ছিল ৬ রান। ছক্কার চেষ্টা না করে নিরাপদে এক রান নিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তরুণ এই ওপেনার। তাতেই বাংলাদেশকে ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে যায় ভারত।
জাপানের নিশিনে এশিয়ান গেমসের নারী ক্রিকেটের সেমিফাইনালে ভারতের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি বাংলাদেশ। সপ্তাহ দেড়েক আগে এশিয়া কাপের সেমিফাইনালের মতো এবারও সহজ জয় পেয়েছে বর্তমান এশিয়ান গেমস চ্যাম্পিয়নরা।
শেফালির দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে ৪ উইকেটে ১৯৫ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে ভারত। জবাবে ৮১ রানের বেশি করতে পারেনি বাংলাদেশ। ফলে ১১৪ রানের বড় জয়ে ফাইনালের টিকিট কাটে ভারত। স্বর্ণপদকের লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা, যারা সেমিফাইনালে পাকিস্তানকে হারিয়েছে।
বাংলাদেশের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটি ভারতের অন্যতম বড় জয়। এর চেয়ে বেশি রানে বাংলাদেশের বিপক্ষে জিতেছে কেবল নিউ জিল্যান্ড। ২০২২ সালে মাত্র ১৬৪ রান করেও বাংলাদেশকে ১৩২ রানে হারিয়েছিল কিউইরা।
এই জয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে টানা ১০ ম্যাচে জয় পেল ভারত। দুই দলের ২৬ ম্যাচের লড়াইয়ে ভারতের জয় এখন ২২টি। ২০২৩ সালের পর থেকে ভারতের বিপক্ষে জয়ের দেখা পায়নি বাংলাদেশ।
সেমিফাইনালে হেরে গেলেও বাংলাদেশের পদকের আশা শেষ হয়নি। আগামী বৃহস্পতিবার ভোরে ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে সেটিই হবে জ্যোতির শেষ ম্যাচ।
শেফালি-মান্ধানার ঝড়
টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চড়াও হন ভারতের দুই ওপেনার শেফালি ভার্মা ও স্মৃতি মান্ধানা। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারেই তারা তুলে নেন ৭২ রান। ষষ্ঠ ওভারে ফিরে যাওয়ার আগে মান্ধানার ব্যাট থেকে আসে ১৯ বলে ৩৭ রান।
এই ইনিংস খেলার পথে সুজি বেটসকে ছাড়িয়ে মেয়েদের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ রানের মালিক হন মান্ধানা। একই সঙ্গে চতুর্থ ব্যাটার হিসেবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ছক্কার সেঞ্চুরিও পূর্ণ করেন ৩০ বছর বয়সী বাঁহাতি ওপেনার।
অন্য প্রান্তে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং চালিয়ে যান শেফালি। মাত্র ২৪ বলে ফিফটি পূর্ণ করার পর একই গতিতে এগিয়ে যান সেঞ্চুরির দিকে। তৃতীয় উইকেটে অধিনায়ক হারমানপ্রিত কৌরের সঙ্গে ৫৫ বলে ৯৪ রানের জুটি গড়েন তিনি।
হারমানপ্রিত ৩৩ বলে ৪০ রান করে ফিরলেও শেফালিকে শেষ পর্যন্ত আউট করতে পারেনি বাংলাদেশের কোনো বোলার। ইনিংসের শেষ বলে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ২২ বছর বয়সী এই ওপেনার।
৪৯ বলের ইনিংসে ৩টি চার ও ৯টি ছক্কা হাঁকান শেফালি। আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মেয়েদের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ডে নাম লেখান তিনি। এর আগে ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১১২ রানের ইনিংসে ৯টি ছক্কা মেরেছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিয়েন্দ্রা ডটিন।
এ ছাড়া ৯ ছক্কার সুবাদে ভারতের দ্বিতীয় এবং সব মিলিয়ে পঞ্চম ব্যাটার হিসেবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ছক্কার সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন শেফালি। চলতি বছরেই তার ছক্কার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৫টি, যা এক বছরে মেয়েদের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ। ২০২৪ সালে ৩২টি ছক্কা মেরে আগের রেকর্ডটি গড়েছিলেন চামারি আতাপাত্তু।
শেষ পর্যন্ত ৪ উইকেটে ১৯৫ রান সংগ্রহ করে ভারত। বাংলাদেশের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটি ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ।
বাংলাদেশের হয়ে ৪ ওভারে ২৫ রান দিয়ে ১ উইকেট নেন বাঁহাতি স্পিনার সানজিদা আক্তার মেঘলা। এ ছাড়া রাবেয়া খান ৩৫, মারুফা আক্তার ৪৩ ও নাহিদা আক্তার ৪৮ রান দিয়ে একটি করে উইকেট নেন।
এর মধ্যে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের কোনো বোলারের এক ম্যাচে সবচেয়ে বেশি রান দেওয়ার অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড গড়েন নাহিদা। এতদিন ৪ ওভারে ৪৪ রান দেওয়ার রেকর্ড ছিল জাহানারা আলম ও ফারিহা তৃষ্ণার। তাদের ছাড়িয়ে এবার ৪৮ রান দেন নাহিদা।
রান তাড়ায় ব্যর্থ বাংলাদেশ
১৯৬ রানের লক্ষ্য তাড়ায় শুরু থেকেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। পাওয়ার প্লের মধ্যেই ড্রেসিংরুমে ফিরে যান তিন ব্যাটার। দলীয় ৫৬ রানের মধ্যেই আরও চার উইকেট হারায় তারা।
প্রথম সাত ব্যাটারের মধ্যে দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেন কেবল দিলারা আক্তার ও শারমিন আক্তার সুপ্তা। শুরুতে এক প্রান্তে ঝড় তোলার আভাস দেওয়া দিলারা ৪টি চার ও ১টি ছক্কায় ২৩ বলে করেন ২৭ রান। সুপ্তার ব্যাট থেকে আসে ২০ বলে ১০ রান।
শেষ দিকে সুলতানা খাতুন ৮ বলে অপরাজিত ১২ রান করলে পরাজয়ের ব্যবধান কিছুটা কমে। শেষ পর্যন্ত ৮১ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ।
ভারতের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন দিপ্তি শর্মা। ২.৪ ওভারে মাত্র ৭ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন তিনি। নন্দিনী শর্মাও ৪ ওভারে ২৫ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট। এ ছাড়া শ্রী চারানি পান ২টি উইকেট।
