বিমানবন্দরে ভিআইপি-সিআইপিসহ সবাইকে বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা তল্লাশির নির্দেশ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৪৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
দেশের সব বিমানবন্দরে ভিআইপি, সিআইপি কিংবা অন্য যে-ই হোন না কেন, সবার ক্ষেত্রে একই নিরাপত্তা বিধি প্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো যাত্রীকে নিরাপত্তা তল্লাশি থেকে অব্যাহতি দেওয়া যাবে না বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (ক্যাব) সদর দপ্তরে পুনর্গঠিত জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটির (এনসিএসসি) প্রথম সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশনা দেন।
সভায় মন্ত্রী এনসিএসসির ১৩তম সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন।
আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইসিএও) আসন্ন নিরাপত্তা নিরীক্ষার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এ নিরীক্ষার ফল দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। সম্ভাব্য যেসব ক্ষেত্রে পর্যবেক্ষণ আসতে পারে, সেসব বিষয়ে আইসিএওর নির্ধারিত মানদণ্ড শতভাগ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, যাত্রীদের উন্নত ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সেবার মান বাড়াতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, বিমানবন্দর এলাকায় অননুমোদিত ড্রোন উড্ডয়ন ঠেকাতে সরকার অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি জানান, প্রায় তিন বছর পর এনসিএসসির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাই সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, নিরাপত্তা কার্যক্রমে যাতে কোনো বিঘ্ন না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যার চেয়ে বেশি স্ক্যানারসহ নিরাপত্তা সরঞ্জাম সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি বিমান চলাচল নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেন তিনি।
সভায় দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করা হয়। এর মধ্যে ছিল বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান জোরদার, জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়ন, আইসিএওর নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ।
এছাড়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবেশপথে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা, আন্ডার ভেহিকল স্ক্যানিং সিস্টেম (ইউভিএসএস)-এর কার্যকারিতা বাড়ানো এবং দেশের সব বেসামরিক বিমানবন্দরে জরুরি পরিস্থিতি ও সংকট ব্যবস্থাপনা জোরদারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ল্যান্ডসাইড এলাকায় যানজট, অননুমোদিত জনসমাগম, ভিক্ষাবৃত্তি এবং অবৈধ লাগেজ মোড়ানোর কার্যক্রম প্রতিরোধে ক্যাব, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), বাংলাদেশ পুলিশ, আনসার, বিমানবন্দর ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদারের সুপারিশ করা হয়।
এ ছাড়া যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণেরও সুপারিশ করেছে কমিটি।
