ভিডিও ভাইরাল
‘খুঁটির সাথে বাবা বাঁধা, চা-রুটি খাওয়াচ্ছে শিশু কন্যা’, কী ঘটেছিল
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বরিশালের উজিরপুরে চুরির অভিযোগে স্থানীয়দের হাতে আটক ও খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা এক ব্যক্তির মুখে তার শিশু কন্যার চা-রুটি খাইয়ে দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, হাত-পা বাঁধা অবস্থায় একটি খুঁটির সঙ্গে আটকে রাখা বাবার মুখে পরম যত্নে চায়ে ভেজানো রুটি তুলে দিচ্ছে তার ছোট্ট মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে স্থানীয় একটি বাজারের কয়েকজন ব্যক্তি ওই ব্যক্তিকে চুরির অভিযোগে আটক করেন। পরবর্তীতে তাকে মারধর করে একটি খুঁটির সঙ্গে সারারাত বেঁধে রাখা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। শনিবার সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় তার চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া বড় মেয়ে।
ঘটনাটি নিজের মোবাইলে ধারণ করে ‘চোর হিসেবে সে যতটা খারাপ, বাবা হিসেবে ততটাই ভালো’ ক্যাপশনে ফেসবুকে পোস্ট করেন স্থানীয় ব্যবসায়ী মিরাজ হোসেন ফরাজি। মুহূর্তেই ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
পোস্টে মিরাজ হোসেন ফরাজি লেখেন, বাজারে গিয়ে দেখেন পিলারের সঙ্গে এক ব্যক্তিকে বেঁধে রাখা হয়েছে এবং চারপাশে উৎসুক জনতা ভিড় করেছে। এর পেছনের দিকে মলিন মুখে দাঁড়িয়ে থাকা ছয়-সাত বছরের শিশুটির কাছে গিয়ে তার পরিচয় জানতে চাইলে সে ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠে জানায় লোকটি তার বাবা। এ সময় কেউ একজন বনরুটি ও চা কিনে দিলে শিশুটি তা টুকরো টুকরো করে চায়ে ভিজিয়ে বাবাকে খাইয়ে দেয়, যা উপস্থিত অনেকের হৃদয় নাড়া দেয়।
আরও পড়ুন: মানিকগঞ্জে ছাত্রলীগ নেতার হাত-পায়ের রগ কেটে দিল দুর্বৃত্তরা
অভিযোগ ও প্রশাসনের পদক্ষেপ:
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি দ্রুত প্রশাসন ও পুলিশের নজরে আসে। খবর পেয়ে শনিবার বিকেলেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী সুজা। তিনি স্থানীয় ও শিশুটির পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ইউএনও জানান, ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে এর আগেও চুরির অভিযোগ এবং মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা শোনা গেছে। তবে স্থানীয়রা পরবর্তীতে তাকে ছেড়ে দেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি চুরির অভিযোগ অস্বীকার করে সাংবাদিকদের দাবি করেছেন, জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাকে এই অপবাদ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হওয়ার পর শিশুটির ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় এগিয়ে এসেছে উপজেলা প্রশাসন। ইউএনও মো. আলী সুজা জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহায়তায় শিশুটির পিতাকে একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে (রিহ্যাব) পাঠানো হয়েছে, যাতে তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেন।
পাশাপাশি শিশুটির পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যাংকে একটি স্টুডেন্ট অ্যাকাউন্ট খোলার ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবং তার মায়ের জন্য কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও বিত্তবানরা এই পরিবারটিকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।
উজিরপুর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোড় ফারুক হোসেন জানান, এ ঘটনায় সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ না থাকায় পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে আইনি পদক্ষেপে যায়নি। তবে প্রশাসন ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় শিশুটি ও তার পরিবারের পুনর্বাসন এবং কল্যাণ নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
