প্রধানমন্ত্রী
‘আজ যারা সংস্কার-সংস্কার করছেন কোথায় ছিলেন বিগত ১৭ বছর’
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১১:৪৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশকে একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, জনগণ ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিএনপিকে সরকার গঠনের সুযোগ দিয়েছে। তাই জনগণের সরকার হিসেবে বিএনপি সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কিশোরগঞ্জ শহরের পুরাতন স্টেডিয়ামে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন, খাদেম ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের নেওয়া এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে সাধারণ মানুষের জীবনে স্বস্তি আসবে এবং মানুষের খাদ্যের সংস্থান হবে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. ফজলুর রহমান, কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য জালাল উদ্দীনসহ অনেকে।
এর আগে বিকেল ৪টার দিকে ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের উন্নয়নে সরকারের নেওয়া ১৭ কোটি টাকার প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর ফলক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী।
নিত্যপণ্যে কর কমানোর কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী
তারেক রহমান বলেন, দুই মাস আগে সরকার বাজেট উপস্থাপন করেছে। সাধারণ মানুষের প্রয়োজনীয় ৬০টি নিত্যপণ্যের ওপর সরকার কর কমিয়েছে। এর ফলে কেউ যাতে সুযোগ নিয়ে এসব পণ্যের দাম বাড়াতে না পারে, সে বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, অতীতে বাজেট ঘোষণার পরদিনই বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়ে যেতে দেখা গেছে। সাধারণ মানুষের স্বস্তির কথা বিবেচনা করেই এবার সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আরও পড়ুন: গণপূর্তের ৪০৯ প্রকৌশলীর বদলি-পদায়ন
৫ বছরে উপজেলা হাসপাতাল হবে ১৫১ শয্যার
সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বাস্তবায়নের পাশাপাশি খাল খনন কর্মসূচিও নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রাম ও উপজেলা পর্যায়ের মানুষের চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য করতে বড় ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের ৫৫৩টি উপজেলার প্রতিটিতে বর্তমানে থাকা ৫০ শয্যার হাসপাতালকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হবে। এর ফলে গুরুতর অসুস্থতা না হলে উপজেলা ও গ্রামের মানুষকে চিকিৎসার জন্য জেলা হাসপাতালে যেতে হবে না।
‘বিভ্রান্তকারীদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে’
দেশে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তাদের অতীত কর্মকাণ্ড বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যৎ কর্মকাণ্ডের ওপরও নজর রাখতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা দেখেছি ১৯৭১ সালে তাদের ভূমিকা কী ছিল। দেখেছি ১৯৮৬ সালে তাদের ভূমিকা কী ছিল, ১৯৯৬ সালে তাদের ভূমিকা কী ছিল। আবার বিগত ১৭ বছরের আন্দোলনেও তাদের রাজপথে দেখা যায়নি।’
তিনি দাবি করেন, ওই সময়ে বিএনপিসহ তাদের সঙ্গে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীরা আন্দোলনে অংশ নিয়ে নির্যাতন, গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন।
আরও পড়ুন: ‘যারা বিশৃঙ্খলা করে বিভ্রান্তি তৈরি করবে, তাদের রুখে দিতে হবে’
বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে যারা এখন নানা বক্তব্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন, তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত ১৭ বছরে রাজপথে তাদের দেখা যায়নি। বর্তমানে তারা সংস্কারের কথা বললেও বিএনপি ২০২২ সালেই সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, ‘সংস্কারের কথা তখন কোথায় ছিলেন আপনারা?’ তার দাবি, বিএনপি ও খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই দেশে সংস্কারের প্রস্তাব প্রথম জনগণের সামনে তুলে ধরা হয়েছিল।
দেশকে স্থিতিশীল রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো বিভ্রান্তকারীর কথায় বিভ্রান্ত হলে চলবে না।
