জানা গেল পে-স্কেলের গেজেট জারির সম্ভাব্য সময়
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১১:৪২ এএম
ছবি : সংগৃহীত
নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সব ধরনের জটিলতা দ্রুত নিষ্পত্তি করে সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে গেজেট প্রকাশের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে সেপ্টেম্বরের শুরুতেই নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের প্রস্তুতি চলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন পে-স্কেলে বেতন বৃদ্ধির হার, বিভিন্ন ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা, জুডিশিয়াল সার্ভিসের বেতন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় এবং সরকারের আর্থিক সক্ষমতা এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রিসভায় প্রস্তাব অনুমোদনের পর তা আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষ হলে সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে গেজেট প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, অক্টোবর থেকে সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন পেতে পারেন। তবে নতুন পে-স্কেল চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হবে। সে ক্ষেত্রে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসের বেতন নতুন কাঠামো অনুযায়ী পুনর্নির্ধারণ করা হবে। বকেয়া অর্থ পরবর্তী সময়ে সমন্বয় করার সুযোগ থাকতে পারে।
এর আগে আগস্টের মধ্যেই গেজেট প্রকাশের পরিকল্পনা ছিল। তবে বেতন বৃদ্ধির হার, ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা, জুডিশিয়াল সার্ভিসের বেতন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় এবং সরকারের আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে পর্যালোচনার কারণে প্রক্রিয়াটি কিছুটা পিছিয়ে যায়।
এখন মন্ত্রিসভায় প্রস্তাব পাঠানোর আগে বেতন কাঠামোর অবশিষ্ট বিষয়গুলো দ্রুত চূড়ান্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনায় গঠিত উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটির কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তবে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে আরও একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর অর্থ বিভাগ প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য পাঠাবে। অনুমোদনের পর শুরু হবে গেজেট প্রকাশের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট কমিটির কাজ শেষ হলেই পে-স্কেলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় পাঠানো হবে। চলতি বছরের মধ্যেই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
অর্থ বিভাগের একটি সূত্র জানিয়েছে, সরকার যেভাবে প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নিচ্ছে, তাতে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে গেজেট প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। কিন্তু গেজেট প্রকাশে বিলম্ব হওয়ায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এখনো পুরোনো বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন পাচ্ছেন।
গেজেট প্রকাশ হলে ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর ধরে বকেয়া বেতন-ভাতা সমন্বয়ের ব্যবস্থা রাখা হতে পারে। ফলে নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন কার্যকর হওয়ার পর আগের তিন মাসের বকেয়া অর্থও হিসাবের আওতায় আসবে।
সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নতুন পে-স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে মূল বেতন কার্যকর করা হবে। পরবর্তী ধাপে ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাস্তবায়ন করা হতে পারে।
পে কমিশনের সুপারিশের তুলনায় বেতন বৃদ্ধির হার কিছুটা কমানোর সুপারিশ করেছে সচিব কমিটি। সরকারের আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই এ সুপারিশ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে জুডিশিয়াল সার্ভিসের বেতন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয়ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কাঠামোর সুপারিশের মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে।
সম্প্রতি জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এ বিষয়টি সমাধানে অর্থমন্ত্রীকে প্রধান করে সাত সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির মাধ্যমে সমন্বয়ের কাজও এগিয়েছে।
সব মিলিয়ে, অবশিষ্ট প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়া শেষ হলে সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এরপর অক্টোবর থেকে নতুন কাঠামোয় বেতন দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার।
