এশিয়ার নোবেল পেলেন বাংলাদেশের রুনা খান
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১২:০৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
‘এশিয়ার নোবেল’ হিসেবে পরিচিত র্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার-২০২৬ পেয়েছেন বাংলাদেশের রুনা খান। তিনি বেসরকারি সংস্থা ‘ফ্রেন্ডশিপ’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক।
সোমবার (৩১ আগস্ট) ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলা থেকে র্যামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশন ২০২৬ সালের পুরস্কারজয়ীদের নাম ঘোষণা করে। এ বছর রুনা খানের সঙ্গে আরও দুজন এ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। তারা হলেন সিঙ্গাপুরের কূটনীতিক, আইনজীবী, অধ্যাপক ও লেখক টমি কোহ এবং মিয়ানমারের মানবাধিকারকর্মী ও সাবেক রাজনৈতিক বন্দী বো চি।
পুরস্কার ঘোষণা হওয়ার মধ্য দিয়ে ৬৮তম র্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা হলো। আগামী ১৫ নভেম্বর ম্যানিলায় উৎসবের সমাপনী আয়োজনে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।
‘ফ্রেন্ডশিপ’-এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দুই দশকের বেশি সময় ধরে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সমন্বিত, সামগ্রিক ও স্থানীয় বাস্তবতাভিত্তিক উন্নয়ন সমাধান তৈরিতে নেতৃত্ব, সাহস ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির স্বীকৃতি হিসেবে রুনা খানকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।
রুনা খান ২০০২ সালে ‘ফ্রেন্ডশিপ’ প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রেন্ডশিপ একটি আন্তর্জাতিক সামাজিক উদ্দেশ্যভিত্তিক সংস্থা (এসপিও)। এর লক্ষ্য এমন একটি সমাজ ও বিশ্ব গড়ে তোলা, যেখানে সবাই- বিশেষ করে দুর্গম ও উপেক্ষিত জনগোষ্ঠী- মর্যাদা ও আশা নিয়ে বেঁচে থাকার সমান সুযোগ পাবে।
সংস্থাটি বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা মোকাবিলায় কাজ করে এবং যেসব জনগোষ্ঠীর জন্য কাজ করে, তাদের প্রয়োজন ও স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়। দুই দশকের বেশি সময় ধরে ফ্রেন্ডশিপের মূল লক্ষ্য প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়া, পরিবেশগত সংকট, চরম দারিদ্র্য, বৈষম্য ও অবিচারের মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে এ লক্ষ্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
যেভাবে শুরু র্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার
ফিলিপাইনের সপ্তম প্রেসিডেন্ট ছিলেন র্যামন ম্যাগসাইসাই। তার নামেই এ পুরস্কার দেওয়া হয়। ১৯৫৭ সালের ১৭ মার্চ এক মর্মান্তিক উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়। একই বছর প্রতিষ্ঠিত হয় র্যামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশন এবং ১৯৫৮ সাল থেকে এ পুরস্কার দেওয়া শুরু হয়।
৩১ আগস্ট র্যামন ম্যাগসাইসাইয়ের জন্মদিন। আজ তার ১১৯তম জন্মবার্ষিকী। প্রতিবছর এ দিনেই ম্যানিলা থেকে পুরস্কারজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়।
র্যামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশনের ভাষ্য, ২০২৬ সালের বিজয়ীদের এমন কাজের স্বীকৃতি হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে, যা র্যামন ম্যাগসাইসাইয়ের নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত স্থায়ী মূল্যবোধকে ধারণ করে। এর মধ্যে রয়েছে মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করা, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের জন্য সুযোগ তৈরি করা এবং মানুষকে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার সক্ষমতা অর্জনে সহায়তা করা।
ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর ছয়টি নির্দিষ্ট শ্রেণিতে এ পুরস্কার দেওয়া হতো। শ্রেণিগুলো হলো- সরকারি সেবা, জনসেবা, সামাজিক নেতৃত্ব, সাংবাদিকতা-সাহিত্য-সৃজনশীল যোগাযোগকলা, শান্তি ও আন্তর্জাতিক বোঝাপড়া এবং উদীয়মান নেতৃত্ব।
২০০০ সাল থেকে ‘উদীয়মান নেতৃত্ব’ শ্রেণিতে পুরস্কার দেওয়া শুরু হয়। ফোর্ড ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহায়তায় এ শ্রেণির পুরস্কার চালু করা হয়েছিল। তবে ২০০৯ সাল থেকে ‘উদীয়মান নেতৃত্ব’ ছাড়া অন্য কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণির মধ্যে পুরস্কারটি সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি।
