×

জাতীয়

বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট কাটাতে সরকারের বড় পরিকল্পনা

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৩ এএম

বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট কাটাতে সরকারের বড় পরিকল্পনা

ছবি : সংগৃহীত

দেশের চলমান জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট কাটাতে স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। দ্রুত গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় উৎস থেকে জ্বালানি অনুসন্ধান, এলএনজি আমদানি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালন সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর বিষয়টিকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জ্বালানি সংকটের পেছনে দীর্ঘদিন গ্যাস অনুসন্ধানে ঘাটতি, আমদানিনির্ভরতা, বিদ্যুৎ খাতের অপরিকল্পিত সম্প্রসারণ, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বিকল হয়ে যাওয়ার মতো কারণ রয়েছে। এসব সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।

সরকারের রোডম্যাপ অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খনন করে গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সময়ে তিনটি এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দৈনিক প্রায় ২৩০ থেকে ২৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হলেও তা বাড়িয়ে ৫০০ কোটি ঘনফুটে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ১০ সেপ্টেম্বর সংসদে বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে জনগণের ভোগান্তির বিষয়ে সরকার সম্পূর্ণ সচেতন। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের জন্য ১০ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। সংকট মোকাবিলায় বিরোধী দলসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা নেওয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে গুরুত্ব

বিদ্যুৎ খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

এ জন্য সাধারণ উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে প্রতি ইউনিট সাড়ে ১০ টাকা দরে বিদ্যুৎ কেনার একটি প্যাকেজ ঘোষণা করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এই উদ্যোগের মাধ্যমে নেট মিটারিংয়ের আওতায় বিভিন্ন খাত থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রস্তাব আসতে পারে।

এ ছাড়া পায়রা, বড়পুকুরিয়া ও মাতারবাড়ীতে ২০৩০ সালের মধ্যে তিনটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব কেন্দ্র থেকে ২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে।

বাড়ানো হবে গ্যাস ও এলএনজি সরবরাহ

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে গ্যাসের দৈনিক চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। বিপরীতে সরবরাহ হচ্ছে প্রায় ২৬০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে স্বাভাবিক সময়ে ১০০ কোটি ঘনফুটের বেশি গ্যাস আমদানি করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়।

গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে স্থানীয় উৎসে অনুসন্ধানের পাশাপাশি আমদানির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আরও অন্তত দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে সমুদ্র এলাকায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দুটি এফএসআরইউ স্থাপন করে দৈনিক প্রায় ১১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো হবে। এ ছাড়া মাতারবাড়ীতে একটি স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন করে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক আরও ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সব মিলিয়ে বর্তমান সরকারের মেয়াদে দৈনিক ৫০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তেল ও কয়লার সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ

প্রাথমিক জ্বালানি হিসেবে তেল, গ্যাস ও কয়লার সরবরাহ বাড়ানোকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে সরকার। কারণ বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প, পরিবহন ও রান্নাসহ বিভিন্ন খাতের কার্যক্রম এসব জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল।

দেশে বছরে জ্বালানি তেলের চাহিদা প্রায় ৭০ লাখ টন। এর ৮০ শতাংশের বেশি আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। তেলের মজুত ৯০ দিনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দেশে প্রায় ৩২ দিনের তেল মজুত রয়েছে।

এ ছাড়া প্রায় ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ইস্টার্ন রিফাইনারি-২ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির অর্থায়নে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সঙ্গে ঋণচুক্তিও হয়েছে।

কয়লার ক্ষেত্রেও সরবরাহ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে প্রায় ৬ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। এসব কেন্দ্রে বছরে প্রায় দেড় কোটি টন কয়লা প্রয়োজন হয়, যার বড় অংশই আমদানি করা হয়।

লোডশেডিং কমাতে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন

গ্যাস সংকটের কারণে অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। এ পরিস্থিতিতে লোডশেডিং কমাতে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ জন্য সরকার ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। পাশাপাশি ২০৩০ সালের মধ্যে জাতীয় গ্রিডের সক্ষমতা বাড়ানোসহ বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার উন্নয়নের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

এলপিজি সরবরাহেও নতুন পরিকল্পনা

নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ভর্তুকি মূল্যে এলপিজি সরবরাহের পরিকল্পনা করছে সরকার। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে প্রতি মাসে ৯০ হাজার টনের বেশি এলপিজি আমদানির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া মহেশখালী, কাট্টলী, মাতারবাড়ী, মোংলা ও অ্যালেঙ্গায় এলপিজি ডিপো স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংকট মোকাবিলায় বড় চ্যালেঞ্জ

জ্বালানি খাতে সরকারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো প্রাথমিক জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত করা। বিশেষ করে গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে। একইভাবে জ্বালানি তেল ও কয়লার ক্ষেত্রেও আমদানিনির্ভরতা বেশি।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, স্থানীয় উৎস থেকে গ্যাস ও জ্বালানি অনুসন্ধান বাড়ানো, এলএনজি সরবরাহের সক্ষমতা বৃদ্ধি, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালন সক্ষমতা বাড়ানো গেলে ধীরে ধীরে বর্তমান সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

সরকারের নেওয়া এসব পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে একটি স্থিতিশীল ও টেকসই সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

পে-স্কেলে বাড়ছে যেসব সুবিধা

পে-স্কেলে বাড়ছে যেসব সুবিধা

আ. লীগের সাবেক সংসদ সদস্য গ্রেপ্তার

আ. লীগের সাবেক সংসদ সদস্য গ্রেপ্তার

দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে কেন জনপ্রিয় জিন্নাহ টুপি

দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে কেন জনপ্রিয় জিন্নাহ টুপি

ইলিশের দেশেই কেন ভারত থেকে আসছে ইলিশ

ইলিশের দেশেই কেন ভারত থেকে আসছে ইলিশ

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App