মরিয়মের হাতের লেখায় ভিন্নতা নিয়ে ব্যাখ্যা দিল ফরেনসিক
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের বেশ কয়েকটি চিরকুট উদ্ধারের দাবি করেছে পুলিশ। চিরকুটগুলো গণমাধ্যমে আসার পর নেটিজেনদের একাংশ নানা ধরনের মন্তব্য করছেন। লেখাগুলো মরিয়মের কিনা সেটি নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) চিরকুটগুলোর প্রাথমিক হস্তাক্ষর বিশ্লেষণ শেষে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ফরেনসিক সাইকোলজি অ্যান্ড সাইন্সেসের পরিচালক ও ফরেনসিক সাইকোলজিস্ট মো. মিরাজ হোসেন এর একটি বিশ্লেষণ তুলে ধরেন।
তিনি জানান, পুলিশ ও গণমাধ্যমে আসা চিঠিগুলোর মধ্যে একটিতে চলতি বছরের ১২ জুলাইয়ের তারিখ রয়েছে। লাল ও কালো কালিতে লেখা এই চিঠির হস্তাক্ষর পর্যালোচনায় দুই ধরনের প্যাটার্ন বা ভিন্নতা লক্ষ্য করা গেছে।
প্রাথমিক বিশ্লেষণ শেষে তিনি বলেন, ‘যে চিঠগুলো পেয়েছি, তার মধ্যে একটির ওপরে তারিখ দেখতে পাচ্ছি। সেটি চলতি বছরের জুলাই মাসের ১২ তারিখ লেখা। আর এখন চলে সেপ্টেম্বর।’
আরও পড়ুন: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে যা বললেন ইসি সচিব
তিনি আরও বলেন, ‘কালো ও লাল রঙের লেখাগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তার হাতের লেখা দুই ধরনের। যাদের লেখার প্যাটার্ন এমন, তাদের ব্যক্তিত্ব সময়ের সঙ্গে বা পারিপার্শ্বিক অবস্থার সঙ্গে পরিবর্তন হতে পারে।’
মিরাজ বলেন, ‘জুলাই মাসের লেখাগুলো তুলনামূলক সোজা। একটু কাটাকাটি, একটু ওভাররাইটিং আছে। এর মানে তার ভেতর বিরক্তি ভাব ছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘এবার অন্য লেখাগুলোর কথা বলি। ‘সে ছিল অন্য নারীর স্বামী…’ এই চিরকুটে লম্বা লম্বা দাগ দিয়েছেন। এভাবে টান দেওয়ার অর্থ হলো ওই সময় তিনি ইমোশনাল ছিলেন। এ সময় তার আচরণ ছিল সব ঠিকঠাক থাকতে হবে। হাতের লেখাগুলো শেষের দিকে একটু বড় থাকার অর্থ হলো সঙ্গীর প্রতি তার প্রত্যাশা অনেক বেশি ছিল। এগুলো বোঝা যায় এই লেখার মাত্রা দেখে। যেমন ‘সম্মান করে’ শব্দগুলোর পর অতিরিক্ত মাত্রা দিয়েছেন। এগুলো আমার কাছে মনে হচ্ছে আত্মহত্যার আগের হাতের লেখা হতে পারে। তবে পুরোপুরি নিশ্চিত হতে আগের লেখাগুলো দেখতে হবে।’’
দুটি লেখার অমিলের বিষয়ে এই গবেষক বলেন, ‘লাল এবং কালো রঙের হাতের লেখার মধ্যে অমিল আছে। এখন প্রশ্ন হলো, এগুলো আসলেই তার লেখা কিনা, এটি শতভাগ নিশ্চিত হতে হলে তার আগের হাতের লেখা আমাদের দেখতে হবে। তবে মনে হয়েছে অন্যের লেখার সম্ভাবনা কম।’
তিনি যোগ করেন, ‘কালো রঙের হাতের লেখাগুলো দেখলে বোঝা যায়, এখানে আর্কেড কানেকশন আছে, মানে লেখাগুলো উপর থেকে কানেক্ট করা। এর অর্থ হলো তিনি তখন প্রটেকটিভ নেচারে চলে গিয়েছিলেন। মানে তার কাছে প্রটেকশন, কেয়ারিংটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এগুলো দেখে আত্মহত্যার আগের মানসিক অবস্থা বোঝা যায়। এ কারণে বলছি, কালো এবং লাল রঙের লেখায় কিছু অমিল থাকলেও আত্মহত্যা করতে যাওয়া মানুষের আচরণের সঙ্গে মিল পাওয়া যায়।’
আরও পড়ুন: অপ্রতিম হত্যা: যে নতুন তথ্য পাওয়া গেল ৪ সিসিটিভি ক্যামেরায়
এই গবেষক বলেন, ‘কালো রঙের লেখার বাম পাশের মাত্রা খেয়াল করলে দেখা যায়, লাইনগুলো একেকবার একেক জায়গা থেকে শুরু হয়েছে। অর্থাৎ তিনি খুব অগোছালো অবস্থায় ছিলেন। মানে এই সময় তিনি ডিসিপ্লিনড লাইফে ছিলেন না। আবার আগের লেখা, মানে লাল কালির লেখাগুলোর সময় কিছুটা ডিসিপ্লিন ছিলেন।’
অমিলের বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা দিতে গিয়ে মিরাজ হোসেন বলেন, ‘লাল রঙের লেখার সঙ্গে কালো রঙের লেখাগুলোয় বেশ অমিল আছে। আত্মহত্যা করতে যাওয়া মানুষের আচরণের সঙ্গে এমনটা হতে পারে। যখন তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকেন, তখন হাতের লেখায় পরিবর্তন আসে। পুরোপুরি নিশ্চিত হতে ভুক্তভোগীর আগের লেখা যাচাই করতে হবে।’
