×

জাতীয়

ডিএমপি কমিশনার

টিকাদানকেন্দ্র ভাঙচুরে এমপি-পুলিশ জড়িত থাকলে ব্যবস্থা

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৩ পিএম

টিকাদানকেন্দ্র ভাঙচুরে এমপি-পুলিশ জড়িত থাকলে ব্যবস্থা

ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় কোনো সংসদ সদস্য জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে ঘটনার সময় পুলিশের কোনো গাফিলতি বা দায়িত্বে অবহেলা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন ডিএমপি কমিশনার।

ঘটনায় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌসী মিষ্টির বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে- এমন প্রশ্নের জবাবে কমিশনার বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। তদন্তে যারা জড়িত বলে প্রমাণিত হবে, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, একটি জনবহুল এলাকায় এত বড় ধরনের ভাঙচুর অল্প সময়ের মধ্যে করা সম্ভব নয়। তার ধারণা, ঘটনাটি ঘটাতে বেশ কিছুটা সময় লেগেছে। টিনের শেডসহ ভবনের বিভিন্ন অংশে ভাঙচুরের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ভবনের ভেতরের ল্যাবের বেশ কিছু যন্ত্রপাতি পাওয়া যাচ্ছে না বলেও তিনি জানতে পেরেছেন।

ডিএমপি কমিশনার জানান, বিষয়টি জানার পরপরই মিরপুর বিভাগের উপকমিশনারকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয় এবং মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এজাহারে একজনের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি ২০০ থেকে ২৫০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। নাম উল্লেখ থাকা আসামিকেও গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। বাকি জড়িতদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ঘটনার সময় পুলিশ উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও ভাঙচুর ঠেকাতে না পারায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার বিষয়ে মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা পুলিশের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। পুলিশ আগে থেকে বিষয়টি জানত কি না, জানার পর যথাসময়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিল কি না এবং দায়িত্ব পালনে কোনো অবহেলা হয়েছিল কি না- এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তিনি জানান, ঘটনা তদন্তে ইতোমধ্যে অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) দারুসসালামকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। শনিবারের মধ্যে কমিটির প্রতিবেদন দেওয়ার কথা রয়েছে। তদন্তে কোনো পুলিশ সদস্যের গাফিলতি বা দায়িত্বে অবহেলা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনো দল বা মত বিবেচনা করা হবে না। যার বিরুদ্ধে অপরাধের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। কোনো ধরনের দখল, বেআইনি কর্মকাণ্ড বা আইনবহির্ভূত কার্যক্রম বরদাশত করা হবে না।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবনে ভাঙচুর চালানো হয়। পরে সেখানে একটি দোকানদার সমিতির সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় শাহ আলী থানায় মামলা করা হয়েছে।

শুক্রবার প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার অভিযোগ করেন, প্রায় ২৫০ জন মুখোশধারী ব্যক্তি ‘সম্মাননা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর ব্যানারে কেন্দ্রটিতে হামলা চালায়। তারা দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে ভেতরে প্রবেশের পর ভাঙচুর ও লুটপাট করে। পরে কেন্দ্রটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সাধারণ মানুষের প্রবেশেও বাধা দেওয়া হয়।

ডা. নাসরিনের দাবি, হামলাকারীরা সরকারি ইপিআই টিকা, টিকাদানের রেজিস্টার ও বিভিন্ন নথি, পরিবার পরিকল্পনার সরঞ্জাম, ওষুধ ও ভ্যাকসিন, নগদ প্রায় ১১ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং আনুমানিক ৪৫ লাখ টাকা মূল্যের একটি আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন নিয়ে গেছে।

এ ছাড়া একটি জেনারেটর, তিনটি ফ্রিজ, তিনটি এসি, সিসিটিভি ক্যামেরা, তিনটি স্টিলের আলমারি, পাঁচটি ফাইল কেবিনেট, ল্যাবরেটরির বিভিন্ন সরঞ্জাম ও রিএজেন্ট, দুটি টিভি, দুটি কম্পিউটার, দুটি ল্যাপটপ, দুটি প্রিন্টারসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র লুটের অভিযোগও করেন তিনি।

প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক আরও জানান, ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবনসহ কেন্দ্রটির বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষতি করা হয়েছে। পরে সেখানে দোকানদার সমিতির একটি সাইনবোর্ড টাঙানো হয়।

তার হিসাবে, শুধু যন্ত্রপাতি ও মালামালের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় দেড় কোটি টাকা। রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারটি সরকারের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে প্রায় ৫০ বছর ধরে মিরপুর এলাকার দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, প্রসূতি সেবা, পরিবার পরিকল্পনা ও শিশুদের টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

তিনি জানান, পরদিন থেকে সরকারি হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরুর কথা থাকলেও কেন্দ্রটি ভাঙচুর ও দখলের কারণে ওই কর্মসূচিসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে গেছে। ঘটনার পর কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত কেন্দ্রটির ক্ষতিপূরণ দিয়ে দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পুনরায় চালুর দাবিও জানানো হয়েছে।

শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম জানান, মামলায় হানিফ মিয়ার নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতপরিচয় ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। অনধিকার প্রবেশ, চুরি, হুমকি ও দেড় কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

ভাঙচুর-লুটপাটে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র এখন ধ্বংসস্তূপ

ভাঙচুর-লুটপাটে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র এখন ধ্বংসস্তূপ

লেবাননে ভয়াবহ ফসফরাস হামলা ইসরায়েলের

লেবাননে ভয়াবহ ফসফরাস হামলা ইসরায়েলের

সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া পাচারের চেষ্টা, উদ্ধার ১৭

সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া পাচারের চেষ্টা, উদ্ধার ১৭

টিকাদানকেন্দ্র ভাঙচুরে এমপি-পুলিশ জড়িত থাকলে ব্যবস্থা

ডিএমপি কমিশনার টিকাদানকেন্দ্র ভাঙচুরে এমপি-পুলিশ জড়িত থাকলে ব্যবস্থা

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App