ফের এলপি গ্যাসের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বাজারে নির্ধারিত দামে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) না পাওয়ার অভিযোগের মধ্যেই আবারও দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বোতলজাতকরণ, বিতরণ ও খুচরা বিক্রির চার্জ এবং কমিশন বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে আগামী ২৯ অক্টোবর গণশুনানি করবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক, ডিস্ট্রিবিউটর ও খুচরা বিক্রেতাদের পক্ষ থেকে এসব চার্জ ও কমিশন বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে প্রস্তাব অনুমোদিত হলেই কেবল দাম বাড়বে কি না, তা নির্ভর করছে বিইআরসির পর্যালোচনা ও সিদ্ধান্তের ওপর।
গত ৪ অক্টোবর ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করেছিল বিইআরসি। এরপরও নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার না পাওয়ার অভিযোগ করছেন ভোক্তারা। এর মধ্যে নতুন করে বিভিন্ন পর্যায়ে পরিচালন ব্যয় ও কমিশন বাড়ানোর দাবি তুলেছেন ব্যবসায়ীরা।
কোন পর্যায়ে কত টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব
প্রস্তাব অনুযায়ী, এলপিজি কোম্পানিগুলো বোতলজাতকরণ চার্জ প্রতি কেজিতে ১৫ থেকে ১৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ থেকে ৩০ টাকা করতে চায়।
অন্যদিকে, ডিস্ট্রিবিউটরদের চার্জ প্রতি কেজিতে ৪ টাকা ১৭ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৮ টাকা ৩৩ পয়সা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। খুচরা বিক্রেতাদের চার্জ প্রতি কেজিতে ৩ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।
এ ছাড়া প্রতি ১২ কেজির সিলিন্ডারে ডিস্ট্রিবিউটরদের কমিশন ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ টাকা করার দাবি জানানো হয়েছে।
বিইআরসি জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে গণশুনানির আয়োজন করা হচ্ছে। শুনানিতে প্রস্তাবগুলোর পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি, তথ্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যয় পর্যালোচনা করা হবে। তবে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হলেই যে চার্জ বা কমিশন বাড়ানো হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
নির্ধারিত দামের চেয়ে ৬০০ টাকা বেশি
বাজারে এলপিজির দাম নিয়ে ভোক্তাদের অভিযোগ, নির্ধারিত মূল্যে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও কোথাও ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার কিনতে সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দিতে হচ্ছে।
এতে বাড়তি দামে গ্যাস কিনতে গিয়ে চাপে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারা। এর মধ্যে নতুন করে চার্জ ও কমিশন বাড়ানোর প্রস্তাব তাঁদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
এর আগে ব্যবসায়ীদের অসন্তোষের কারণে দেশব্যাপী দুই দিনের ধর্মঘটের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল। এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির নেতারা দাবি করেন, পরিবহন ব্যয়, শ্রমিকের মজুরি, গুদামভাড়া ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় কমিশন বাড়ানো প্রয়োজন।
গত ১৪ অক্টোবর বিইআরসি দাবিগুলো নিয়ে শুনানির আশ্বাস দিলে ব্যবসায়ীরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করেন। এর আগে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ
এলপিজির সরবরাহ নিয়ে সংকটের অভিযোগের মধ্যে কৃত্রিম সংকট তৈরির আশঙ্কাও প্রকাশ করেছে সরকার। গত ৩০ সেপ্টেম্বর জ্বালানিমন্ত্রী জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেন, কোথাও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি করা হচ্ছে কি না, তা তদন্ত করে দেখতে।
আগামী ২৯ অক্টোবরের গণশুনানিতে কোম্পানি ও ব্যবসায়ীদের চার্জ বৃদ্ধির প্রস্তাব পর্যালোচনা করবে বিইআরসি। শুনানিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও তথ্য যাচাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এখন ভোক্তাদের প্রধান প্রত্যাশা, একদিকে যেন নির্ধারিত দামে এলপিজি পাওয়া নিশ্চিত হয়, অন্যদিকে নতুন কোনো সিদ্ধান্তের কারণে গ্যাসের খরচ যেন আরও বেড়ে না যায়।
