×

জাতীয়

ভোজ্যতেলের দাম বাড়াতে চান ব্যবসায়ীরা

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪১ পিএম

ভোজ্যতেলের দাম বাড়াতে চান ব্যবসায়ীরা

ছবি : সংগৃহীত

রমজান সামনে রেখে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণ দেখিয়ে ভোজ্যতেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে খেজুর আমদানিতে শুল্ক ছাড় চেয়েছেন আমদানিকারকেরা। তবে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) রমজান উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি প্রস্তুতি, সরবরাহ পরিস্থিতি ও বাজারদর পর্যালোচনায় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। খেজুর আমদানিতে শুল্ক ছাড়ের বিষয়টি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

আমদানিকারকদের দাবি, বর্তমানে খেজুর আমদানিতে প্রায় ৫৫ শতাংশ শুল্ক ও কর দিতে হয়। উচ্চ শুল্কায়নমূল্য এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে আমদানি খরচও বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে পণ্য পরিবহনে জটিলতা তৈরি হওয়ায় বিকল্প পথে পণ্য আনতে হচ্ছে। এতে পরিবহন ও সরবরাহ ব্যয় বাড়ছে। পাশাপাশি ঋণপত্র (এলসি) খোলার জটিলতা অব্যাহত থাকলে সরবরাহ আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী খেজুরের জাত, মান ও দামের পার্থক্য বিবেচনায় নিয়ে স্বচ্ছ ও যৌক্তিক শুল্ক কাঠামো নির্ধারণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মিসর, সৌদি আরব, ইরাক ও আলজেরিয়াসহ প্রায় এক ডজন দেশ থেকে বাংলাদেশে বিভিন্ন মানের খেজুর আমদানি করা হয়। এসব খেজুরের জন্য একই শুল্কায়নমূল্য নির্ধারণ করা হলে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

আমদানিকারকেরা প্রকৃত মান ও দামের ভিত্তিতে খেজুরের শুল্ক নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, সাধারণ মানের খেজুরের প্রকৃত দামের তুলনায় বেশি শুল্কায়নমূল্য নির্ধারণ করায় শুল্ক ও সামগ্রিক আমদানি ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া ফল আমদানিতে আরও নমনীয় করব্যবস্থা চালুর দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।

বৈঠকে আমদানি শুল্ক নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়। খেজুর আমদানিতে বিদ্যমান শুল্ক ছাড়ের সুবিধা দ্রুত কার্যকর করার বিষয়েও কথা হয়। কর্মকর্তারা জানান, এ-সংক্রান্ত অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আমদানিকারকদের সমস্যাগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

রমজানের আগে বেড়েছে নিত্যপণ্যের আমদানি

রমজান সামনে রেখে ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, মসুর ডাল ও খেজুরের আমদানি বেড়েছে। বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ীদের সময়মতো পণ্য আমদানির আহ্বান জানিয়েছে সরকার।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত এসব পণ্যের আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে।

এ সময়ে দেশে ভোজ্যতেল আমদানি হয়েছে ৮ লাখ ২৩ হাজার টন। গত বছরের একই সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল ৭ লাখ ৫ হাজার টন। অর্থাৎ আমদানি বেড়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার টন। ভোজ্যতেল আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়েছে ৮ লাখ ৫ হাজার টনের, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ লাখ ৩১ হাজার টন বেশি।

চিনি আমদানি হয়েছে ৬ লাখ ৮৭ হাজার টন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ লাখ ৫৩ হাজার টন বেশি। এ সময়ে চিনি আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়েছে ৮ লাখ ১০ হাজার টনের।

রমজানে ইফতারের অন্যতম উপকরণ ছোলার আমদানিও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ছোলা আমদানি হয়েছে ৮২ হাজার টন। গত বছরের একই সময়ে আমদানি হয়েছিল ১২ হাজার টন। সে হিসাবে আমদানি বেড়েছে ৭০ হাজার টন। এ সময়ে ছোলা আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার টনের।

এ ছাড়া মসুর ডাল আমদানি হয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার টন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬৪ হাজার টন বেশি। মসুর ডাল আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার টনের।

অন্যদিকে, এ সময়ে খেজুর আমদানি হয়েছে ১১ হাজার টন। গত বছরের একই সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল ৪ হাজার টন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, রমজানে ভোজ্যতেল, চিনি, মসুর ডাল, ছোলা, খেজুর, মুরগি ও ডিমের চাহিদা স্বাভাবিক মাসের তুলনায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। এ কারণে আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। তাঁদের আমদানির প্রস্তুতি এবং কোনো সমস্যা রয়েছে কি না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

বড় ব্যবসায়ীদের কারণে চাপে ছোট ডাল মিল

রমজানে ছোলা ও মসুর ডালের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং দাম স্থিতিশীল রাখতে প্রস্তুত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে বড় ব্যবসায়ীদের কারণে ছোট ডাল মিলগুলো ব্যবসা পরিচালনায় সমস্যায় পড়ছে বলে বৈঠকে অভিযোগ উঠেছে।

বাংলাদেশ ডাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজী নেসার উদ্দিন বলেন, রমজানে ছোলা ও মসুর ডালের সরবরাহ ও দাম স্বাভাবিক রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করেছে। ব্যবসায়ীরাও স্বাভাবিকভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, দেশে ছোলার চাহিদা সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর। অন্যদিকে, মসুর ডালের চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশ আমদানি করতে হয়। বড় ব্যবসায়ীদের কারণে সাধারণ ডাল মিলগুলো এখন আর ব্যবসা করতে পারছে না। বিষয়টি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে বিবেচনায় নিতে হবে।

হাজী নেসার উদ্দিন আরও জানান, বৈঠকে খেজুর আমদানির পর্যায়ে শুল্ক কমানোর দাবিও জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

এদিকে, ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সচিব মো. নুরুল ইসলাম মোল্লা কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

রমজানে ডিম-মুরগির সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার আশা

বৈঠকে পোল্ট্রি খাতের প্রতিনিধিরা জানান, বর্তমানে ডিম ও মুরগির উৎপাদন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। খামার পর্যায়ে ডিমের দাম কিছুদিন আগের প্রতি পিস সাড়ে ১১ টাকা থেকে কমে ১০ টাকার নিচে নেমেছে, যা উৎপাদন খরচের কাছাকাছি।

খামারগুলোতে রোগবালাইয়ের উল্লেখযোগ্য প্রকোপ না থাকায় উৎপাদন ও সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতির আশঙ্কা নেই বলে জানান তাঁরা।

প্রতিনিধিদের মতে, রমজানে সকালের নাশতার ধরনে পরিবর্তন আসায় ডিমের চাহিদা কিছুটা কমতে পারে। তবে ঈদের পর মুরগির চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যার প্রভাব বাজারদরে পড়তে পারে।

তাঁরা আরও জানান, বিদ্যমান আমদানি নীতি অনুযায়ী সরকারের বিশেষ অনুমতি ছাড়া ডিম ও মাংস আমদানি করা যায় না।

আন্তর্জাতিক বাজার ও শুল্ক পরিস্থিতি পর্যালোচনা

বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেল ও ছোলার দাম কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও মসুর ডালের দাম কমেছে। এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য, আমদানি ব্যয় এবং স্থানীয় বাজারে পণ্যের সরবরাহ পর্যবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে জানানো হয়, বর্তমানে ছোলা ও মসুর ডাল আমদানিতে কোনো শুল্ক-কর নেই। তবে চিনি ও ফল আমদানির বিদ্যমান শুল্ক কাঠামো পর্যালোচনা করে যৌক্তিক সমন্বয় করা গেলে বাজারে দাম সহনীয় রাখতে সহায়ক হতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় বাজারে তাজা ফলের দামও কিছুটা কমেছে বলে পর্যালোচনায় উঠে এসেছে।

রমজানে সেহরি ও ইফতারের বিশেষ খাদ্যাভ্যাসের কারণে ভোজ্যতেল, চিনি, মসুর ডাল, ছোলা, খেজুর, মুরগি ও ডিমের চাহিদা স্বাভাবিক মাসের তুলনায় দ্বিগুণ বা তার বেশি হয়। ইফতারে ছোলা ও খেজুরের ব্যবহার বেশি থাকায় এ দুই পণ্যের চাহিদা রমজানকেন্দ্রিক। একইভাবে শরবত, মিষ্টিজাতীয় খাবার ও বিভিন্ন ইফতারি তৈরিতে চিনির ব্যবহার বাড়ে। এ সময়ে চিনির চাহিদা প্রায় ৩ লাখ টনে পৌঁছায়।

ভাজাপোড়া ও ইফতারের বিভিন্ন পদ তৈরিতে সয়াবিন ও পাম তেলের চাহিদাও বেড়ে যায়। পেঁয়াজু, বেগুনি, ডালের বড়া এবং সেহরিতে ডাল খাওয়ার প্রচলন থাকায় মসুর ডালের চাহিদা বাড়ে। বিশেষ করে ছোট দানার উন্নত মানের মসুর ডালের চাহিদা বেশি থাকে।

মুরগি ও ডিম ছাড়া এসব পণ্যের চাহিদা পূরণে আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয়। কোনো কোনো সময়ে ডিমও আমদানি করতে হয়। তাই রমজানে বাড়তি চাহিদার মধ্যে বাজারদর স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতা এবং বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন, এনবিআর, ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি), জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, এফবিসিসিআই, পুলিশ, ডিজিএফআই ও এনএসআইয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ার পক্ষে যুদ্ধে বাংলাদেশসহ ২৯ দেশের নাগরিক

জাতিসংঘের প্রতিবেদন চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ার পক্ষে যুদ্ধে বাংলাদেশসহ ২৯ দেশের নাগরিক

তাসনিম জারার পদত্যাগের বিষয়ে এবার মুখ খুললেন এমপি নুসরাত

তাসনিম জারার পদত্যাগের বিষয়ে এবার মুখ খুললেন এমপি নুসরাত

দেশ ছাড়েননি, আগাম জামিন চেয়েছেন সেই শিশুর বাবা

দেশ ছাড়েননি, আগাম জামিন চেয়েছেন সেই শিশুর বাবা

‘ক্রসফায়ারের’ ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

‘ক্রসফায়ারের’ ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App