তাহসিফের নিখোঁজ হওয়ার রাতে কী ঘটেছিল, জানালেন বন্ধু দ্বীপ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরি নিখোঁজ হওয়ার রাতে তাঁর সঙ্গে কাটানো সময়ের বর্ণনা দিয়েছেন জুনিয়র বন্ধু শাহরিয়ার দ্বীপ। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ৯টা থেকে ১১টা ৩০ মিনিট বা ১২টা পর্যন্ত তাঁরা একসঙ্গে ছিলেন। এ সময় তাহসিফের মোটরসাইকেল মেরামত, ওয়ার্কশপে যাওয়া এবং একসঙ্গে রাতের খাবার খাওয়ার ঘটনা ঘটে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম হেলাল কালবেলাকে জানান, জুনিয়র বন্ধু দ্বীপের ফোন পেয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তাহসিফ। বের হওয়ার আগে মাকে জানিয়েছিলেন, একটু কথা বলে ফিরে আসবেন। কিন্তু এরপর থেকে তাঁর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
পরিবারের দাবি, রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মাকে শেষবারের মতো মেসেজ পাঠিয়ে তাহসিফ লেখেন, ‘আম্মু, আমি আসছি।’ পরদিন সন্ধ্যার আগে পরিবার জানতে পারে, রাজধানীর উত্তরার রাজাবাড়ী ঘাট এলাকায় নদী থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
দ্বীপের নাম সামনে আসার পর তাহসিফের ফেসবুক আইডি ঘেঁটে তাঁর সন্ধান পায় অনলাইন সংবাদমাধ্যমটি। পরে প্রতিবেদক ফোনে দ্বীপের সঙ্গে কথা বলেন।
তাহসিফের সঙ্গে সেদিনের ঘটনা বর্ণনা করে শাহরিয়ার দ্বীপ বলেন, তাঁদের দুজনের মোটরসাইকেলের মডেল একই। তাহসিফের বাইকটি অকেজো হয়ে পড়ায় তিনি সেটি চালু করতে সাহায্য করেন। এরপর দুজন উত্তরার একটি ওয়ার্কশপে যান।
দ্বীপের ভাষ্য, ওয়ার্কশপে তাহসিফের মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তনসহ আরও কিছু কাজ করা হয়। কাজ শেষ করে তাঁরা আবার অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্প এলাকায় ফেরেন। পরে একটি রেস্টুরেন্টে গিয়ে একসঙ্গে রাতের খাবার খান।
এরপর দ্বীপ নিজের বাসার দিকে চলে যান এবং তাহসিফ অন্যদিকে চলে যান বলে জানান তিনি। তবে তাহসিফ কোথায় বা কী কাজে গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে তাঁর নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই।
তাহসিফের সঙ্গে কতক্ষণ ছিলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে দ্বীপ বলেন, মোটরসাইকেলের কাজ নিয়ে তাঁরা প্রায় এক থেকে দেড় ঘণ্টা ব্যস্ত ছিলেন। তবে সব মিলিয়ে তাঁদের একসঙ্গে থাকার সময় ছিল প্রায় তিন ঘণ্টা।
দ্বীপ বলেন, ‘তার সঙ্গে আমার দেখা রাত ৯টার দিকে। আর আমি যখন বাসার দিকে চলে আসি, তখন ১১:৩০টা থেকে ১২টার মতো বাজে। তিন ঘণ্টার মতো। তার মধ্যে দুই ঘণ্টাই আমরা ওয়ার্কশপে ছিলাম।’
তাহসিফের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে দ্বীপ বলেন, তাহসিফ বয়সে তাঁর বড় ছিলেন এবং তিনি তাঁকে খুব কাছের একজন বড় ভাই হিসেবে দেখতেন। এমনকি তাঁরা সপরিবারে তাহসিফদের বাসায় দাওয়াত খেতেও গিয়েছেন বলে জানান তিনি।
তাহসিফের নিখোঁজ হওয়া এবং পরদিন তাঁর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় বিভিন্ন তথ্য সামনে আসছে। তবে সেদিন রাতে দ্বীপের কাছ থেকে আলাদা হওয়ার পর তাহসিফ কোথায় গিয়েছিলেন, তা তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়নি।
