প্রধানমন্ত্রী
ষড়যন্ত্রকারীদের জবাব দেয়া হবে একে একে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:১২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ষড়যন্ত্র করে বাংলাদেশের মানুষকে দাবিয়ে রাখা যাবে না। দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে যারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে, তাদের প্রত্যেককে একে একে জবাব দেওয়া হবে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) নয়াপল্টনে বিএনপির জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত র্যালিপূর্ব সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ সময় পর দেশের মানুষ মুক্ত পরিবেশে বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালনের সুযোগ পেয়েছে। তবে দেশের বিরুদ্ধে আবারও একটি মহল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। অতীতের মতো এবারও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ও স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু কোনো ষড়যন্ত্রই এ দেশের মানুষকে দমিয়ে রাখতে পারবে না।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, লাখো মানুষের আত্মত্যাগ ও ঘরবাড়ি ছেড়ে যুদ্ধে যাওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। স্বাধীনতার পেছনে মানুষের প্রত্যাশা ছিল একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা, যেখানে জনগণের অধিকার ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে। কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকেই দেশের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন মহল বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব মেনে নিতে পারেনি। তারা সাধারণ মানুষকে দাবিয়ে রাখা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। এভাবেই দেশে ষড়যন্ত্র ও অধিকার হরণের রাজনীতির সূচনা হয়।
আরও পড়ুন: সৌদি আরবে এবার সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ বাংলাদেশি নিহত
১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই দিন সিপাহী-জনতার ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী অপশক্তিকে পরাজিত করা হয়েছিল। এর মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্রের নতুন পথ উন্মোচিত হয়। তবে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার মেনে নিতে না পারা মহলটি বিভিন্ন সময়ে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করেছে। বারবার জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চালানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ আবারও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়েও বিভিন্নভাবে সেই অধিকার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জনগণ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধার করেছে। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের মতো ২০২৪ সালের ৫ আগস্টও জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে অপশক্তিকে পরাজিত করেছে।
তারেক রহমান বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আন্দোলন শুধু দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, এর মধ্য দিয়ে ছাত্র-জনতা স্বৈরাচারী শক্তিকেও দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে। অতীতেও এ দেশের মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। তাই কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জনগণের আন্দোলন ও অর্জনকে থামিয়ে রাখা সম্ভব হবে না।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতের মতো আবারও একটি মহল দেশ নিয়ে ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বাধাগ্রস্ত করার পাশাপাশি জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনব্যবস্থা বন্ধের চেষ্টা করছে। তবে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর, ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনা প্রমাণ করে, এ দেশের মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে জানে। কোনো ষড়যন্ত্রই তাদের দমিয়ে রাখতে পারবে না।
দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাসী এবং জনগণের ভোটাধিকারের পক্ষে থাকা সব রাজনৈতিক দলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকতে পারে, তবে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো বিভেদ থাকা উচিত নয়। জাতীয় স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে যারা ষড়যন্ত্র করছে, তাদের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, অতীতের বিভিন্ন আন্দোলন ও গণ-অভ্যুত্থানের মতো এবারও ষড়যন্ত্রকারীদের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিটি ষড়যন্ত্রের জবাব একে একে দেওয়া হবে। কোনো শক্তিই বাংলাদেশের মানুষকে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারবে না।
