অবিস্মরণীয় ডাবল সেঞ্চুরিতে ইতিহাস হৃদয়ের, ছাড়ালেন মুশফিককে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৩১ পিএম
ডাবল সেঞ্চুরির পর হৃদয়ের উদ্যাপন। ছবি: সংগৃহীত
এক প্রান্তে উইকেটের পতন, অন্য প্রান্তে একাই লড়াই চালিয়ে যাওয়া। সিলেট টেস্টে তাওহিদ হৃদয়ের ব্যাটে যেন ধৈর্য আর দৃঢ়তার অন্য এক গল্প লিখল বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হৃদয় জুড়ানো দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন এই ডানহাতি ব্যাটার। তার এই কীর্তিতে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে যোগ হলো ষষ্ঠ ডাবল সেঞ্চুরি।
জোমেল ওয়ারিকনের বলটা মিড-অনে ঠেলে দিয়েই স্বপ্নের ঠিকানায় পৌঁছে গেলেন তৌহিদ হৃদয়, তীব্র উল্লাসে উঁচিয়ে ধরলেন ব্যাট। চরম খাদের কিনার থেকে অবিশ্বাস্য ডাবল সেঞ্চুরিতে ইতিহাস গড়লেন তিনি।
একা লড়ে যেভাবে সেঞ্চুরি করেছিলেন, সেটাই ছিল মনে রাখার মতো। তবে সেঞ্চুরিতেই থামতে চাইলেন না হৃদয়। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে টেইলএন্ডারদের নিয়ে গড়লেন ইতিহাস। ৩০৪ বলে ২০০ স্পর্শ করেন হৃদয়।
মুশফিকুর রহিমের ২১৯ রানের রেকর্ড ছাড়িয়ে হৃদয়ের রান এখন ২৩৬*।
২০১৮ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মিরপুরে অপরাজিত ২১৯ রানের ইনিংস খেলেছিলেন মুশফিক। এত দিন সেটিই ছিল টেস্টে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস। সিলেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মুশফিকুর রহিম (তিনটি), সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালের পর বাংলাদেশের চতুর্থ ক্রিকেটার হিসেবে ডাবল সেঞ্চুরি করলেন তিনি। সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়লেন হৃদয়।
শুধু ব্যক্তিগত রানেই নয়, বাউন্ডারির হিসাবেও নতুন রেকর্ড গড়েছেন হৃদয়। ৩৪৯ বলের ইনিংসে ২২টি চার ও ১০টি ছক্কা মেরেছেন তিনি। বাউন্ডারি থেকেই এসেছে ১৪৮ রান। বাংলাদেশের হয়ে এক ইনিংসে বাউন্ডারি থেকে এত রান আগে কেউ করেননি। ২০১৭ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২১৭ রানের ইনিংসে ৩১টি চারের সাহায্যে বাউন্ডারি থেকে ১২৪ রান করেছিলেন সাকিব আল হাসান। এক ইনিংসে ছক্কার হিসাবেও এখন বাংলাদেশের শীর্ষে হৃদয়। তার ১০ ছক্কায় ছাড়িয়ে গেছেন তামিম ইকবালকে। ২০১৫ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে এক ইনিংসে সাতটি ছক্কা মেরেছিলেন তামিম।
অথচ ইনিংসের শুরুটা মোটেও সহজ ছিল না বাংলাদেশের জন্য। ২২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছিল দল। সেই অবস্থা থেকে এক প্রান্ত আগলে রেখে ইনিংস গড়েন হৃদয়। তৃতীয় দিনের শুরুতে মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে জুটি গড়ার পর লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদের বিদায় দেখেছেন অন্য প্রান্তে। তবে থামেননি নিজে।
প্রথমে ১০৯ বলে ফিফটি, পরে ১৭১ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন হৃদয়। এরপর তাইজুল ইসলামকে নিয়ে অষ্টম উইকেটে ১১৭ রানের জুটি গড়েন। তাইজুল ২২ রান করে ফিরলেও শেষ দিকের ব্যাটসম্যানদের সঙ্গে নিয়ে ইনিংস এগিয়ে নিচ্ছেন হৃদয়। এর মধ্যে পাঁজরে বলের আঘাত পেয়েও ব্যাটিং চালিয়ে গেছেন তিনি।
হৃদয়ের ব্যাটে শেষ পর্যন্ত প্রথম ইনিংসে লিডও পেয়েছে বাংলাদেশ। ১০১ ওভার শেষে স্বাগতিকদের সংগ্রহ ৮ উইকেটে ৩৭৬ রান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসের চেয়ে ২০ রানে এগিয়ে বাংলাদেশ। ২৩৬ রানে অপরাজিত হৃদয়, অন্য প্রান্তে ব্যাট করছেন তাসকিন আহমেদ।
