নাহিদ ইসলাম
বিএনপির ইতিহাসই হলো জনগণের সঙ্গে প্রতারণা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, বিএনপি অতীতের বিভিন্ন গণআন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থান থেকে রাজনৈতিকভাবে লাভবান হলেও পরবর্তীতে সেসব আন্দোলনের মূল অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করেনি। তার ভাষায়, দলটির রাজনৈতিক ইতিহাস জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতার উদাহরণ বহন করে।
শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে রংপুর নগরীর জিলা স্কুল মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত বিভাগীয় সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, সীমান্ত হত্যা ও ‘পুশ-ইন’ বন্ধ এবং উত্তরাঞ্চলের জনদুর্ভোগ নিরসনের দাবি জানানো হয়।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবির ভিত্তিতেই বিএনপি ক্ষমতায় এলেও পরে সেই ব্যবস্থার বিরোধিতা করে। এর ফলেই দলটিকে দীর্ঘ সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন করতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গণভোট, সংস্কার এবং জুলাই সনদকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার পর বিএনপি সেসব অঙ্গীকার থেকে সরে এসেছে। তার দাবি, গণভোটের ফলাফল এবং সংস্কার বাস্তবায়নের প্রশ্নে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।
প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরের সমালোচনা করে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, এ সফর থেকে তিস্তা মহাপরিকল্পনা কিংবা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি অর্জিত হয়নি। তার মতে, দেশে জাতীয় ঐক্য ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা না থাকলে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অর্জনও কঠিন হয়ে পড়ে।
রংপুর বিভাগের উন্নয়ন প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চল বৈষম্যের শিকার। নতুন সরকারের প্রথম বাজেটেও রংপুরকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, উন্নয়ন বরাদ্দের ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক বিবেচনা প্রাধান্য পাচ্ছে, যার ফলে রংপুরের মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে।
তিনি রংপুরের জন্য বিশেষ উন্নয়ন বরাদ্দ, দ্রুত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির দাবি জানান।
বাজেট প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, এতে ব্যাংক খাতের সংস্কার, অর্থ পাচার রোধ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে কার্যকর ও সুস্পষ্ট পরিকল্পনার অভাব রয়েছে।
শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি বিষয়। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ভারত শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ করে দিচ্ছে।
সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান এবং জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান। এছাড়া ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারাও সমাবেশে বক্তব্য দেন।
