সরকার ‘জিয়াতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠা করেছে : নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:১৭ পিএম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ছবি : সংগৃহীত
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, বর্তমান সরকার দেশে গণতন্ত্রের পরিবর্তে ‘জিয়াতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠা করেছে । এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তীব্র সমালোচনা করেন।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর বিজয়নগর পানির ট্যাংক মোড়ে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জ্বালানি সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণসহ জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের গণমিছিল পূর্ব সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে তা হয়নি। তার ভাষায়, ১২ ফেব্রুয়ারির পর দেশে গণতন্ত্রের বদলে ‘জিয়াতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ব্যাংক, সংসদ ও দুদকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দখল করা হয়েছে এবং ১১ দলীয় জোটের নেতাদের বাসায় হামলা চালানো হচ্ছে। জনগণের ভোটাধিকার ও মৌলিক অধিকার হরণ করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, জনগণ নিরাপত্তা চেয়েছিল, কিন্তু বর্তমানে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তার দাবি, অনেক ব্যবসায়ী সন্ধ্যার পর দোকান বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন এবং জ্বালানি সংকটের কারণে পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে, তবুও পর্যাপ্ত তেল মিলছে না।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারের প্রত্যাশা থাকলেও তা হয়নি। বরং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে ‘হাওয়া ভবনের’ লোকজনকে বসানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, এসব ব্যক্তিদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে বসিয়ে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং দেশের জনগণের সঙ্গে ইচ্ছামতো আচরণের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও বলেন, যদি এটাই রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ হয়, তবে তা দেশের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ যাবে শহীদদের আদর্শ ও গণ-আন্দোলনের পথ অনুসরণ করে। কেউ সেই পথে বাধা দিলে প্রতিরোধের কথাও জানান তিনি।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর আযাদ ও নূরুল ইসলাম বুলবুল, এবি পার্টির সহ-সভাপতি ড. ওহাব মিনার, ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন চাঁন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির নেতা খন্দকার মিরাজুল ইসলাম, নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মূসা বিন ইজহার এবং খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির আহমদ আলী কাসেমীসহ অনেকে।
