ডা. শফিকুর রহমান
মধ্যস্বত্বভোগী ও চাঁদাবাজদের কারণেই বাজারে অস্থিরতা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬, ০৫:১১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
পাইকারি কাঁচাবাজারে দোকান দখলদারিত্ব ও নীরব চাঁদাবাজি থাকলেও মুখ ফুটে কেউ কথা বলতে চায় না, সবার মুখ চেপে রাখা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে রাজধানীর মিরপুর এক নম্বরে পাইকারি কাঁচাবাজার পরিদর্শন শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, চাঁদাবাজি আফ্রিকার জঙ্গল থেকে এসে কেউ করে না, তাদের পরিচয় আমরা সবাই জানি। আমরা চাই চাদাবাজিটা বন্ধ হোক। আমরা মধ্যস্বত্বভোগী ও চাঁদাবাজদের সিন্ডিকেড ভাঙতে চাই। জনগণের জন্য এ লড়াই অব্যাহত থাকবে। সংসদে ও সংসদের বাইরে আমাদের দাবি ও প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ।
জামায়াত আমির বলেন, সংসদের বিগত অধিবেশনের শেষ দিবসে আমি পরিষ্কার বলেছি যে, সংসদের ৩০০ জন সদস্য যদি সিদ্ধান্ত নেয় যে, বাংলাদেশে চাঁদাবাজি হবে না- তাহলে কেউ করার সাহস পাবে না। কিন্তু তারাই যদি আশ্রয় প্রশ্রয় দেয় তাহলে চাঁদাবাজি বন্ধ করা অসম্ভব।
তিনি বলেন, আগের থেকেই বাজার অস্থির, ইদানিং মনে হচ্ছে আরো একটু বেশি অস্থির। মাঝখানে জ্বালানি সমস্যা ছিল, তার সাথে চাঁদার যন্ত্রণা ছিল। এই দুইটা মিলেই বাজার অস্থির হয়, এটাও আমরা জানি, এ ঘাটে ঘাটে সিন্ডিকেট এটাও আমরা জানি। এই বিশাল মার্কেটের দোকানগুলোতে স্বস্তিদায়কভাবে কেউ ব্যবসা করতে পারে না।
জামায়াত আমির বলেন, মধ্যস্বত্বভোগী ও চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের কারণে ভোক্তারাও যেমন ন্যায্যমূল্যে পণ্য পায় না, তেমনি কৃষক তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পান না, মাঝখানে অন্যদের পেটে ঢুকে যায়। আমরা ওটা ভাঙতে চাই। কোনদিন ভাঙতে পারব আল্লাহ ভালো জানেন, কিন্তু আমাদের লড়াই শুরু হয়েছে, এই লড়াই চলবে, আমরা থামবো না। এই দেশটা আমরা সবাই মিলেই ভালো করতে পারব, একা কেউ পারবে না, একা কোন দলও পারবে না। এতে জনগণের সহযোগিতা দরকার। দেশ তো জনগণের জন্য, দেশের মালিকও জনগণ। এই জনগণের জন্য আমাদের লড়াই সংগ্রাম ইনশাল্লাহ অব্যাহত থাকবে।
জামায়াতের এ নেতা বলেন, বাজারে পরিদর্শনের সময় ব্যবসায়ীদের সমস্যা শুনতে চান বিরোধীদলীয় নেতা। এ সময় একজন ব্যবসায়ী জানান যে, সরকারিভাবে যে ঘরগুলোর ভাড়া পাঁচ হাজার টাকা (১৩ টাকা স্কয়ার ফিট), বিগত সরকারের আমলের রাজনৈতিক নেতারা সেগুলো বরাদ্দ নিয়ে সাধারণ ব্যবসায়ীদের কাছে ৯০ হাজার থেকে এক লাখ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া দিচ্ছে।
পণ্যে চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যে জিনিসটার দাম আজকে ১০ টাকা হওয়ার কথা, চাঁদা দেওয়ার কারণে বাধ্য হয়ে এটা ১২ বা ১৩ টাকায় বিক্রি করতে হয়। অর্থাৎ এটার ভার গিয়ে পড়ছে জনগণের ঘাড়ে।
তিনি ব্যবসায়ীদের ভীতি দূর করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের ডাক দিয়ে বলেন, বন্ধ করতে হলে একটা প্রতিরোধ করা লাগবে। আমরা সবাই মিলে প্রতিরোধ করব। চাঁদাবাজির তথ্য প্রকাশ করায় ওই ব্যবসায়ীর কোন ক্ষতি হলে তার পাশে থাকার আশ্বাস দেন বিরোধীদলীয় নেতা।
তিনি সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন, যেন জনগণের এই দুঃখ-দুর্দশার চিত্র নিয়মিত মিডিয়ায় তুলে ধরা হয়, যাতে সামাজিক সচেতনতা বাড়ে এবং দুষ্কৃতিকারী ও চাঁদাবাজদের দমন করা সম্ভব হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, ঢাকা-১৪ আসনের এমপি ও জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাসেম আরমান, উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান প্রমুখ।
