২৪৮ আসামির তালিকায় চার মৃত আ.লীগ নেতা, চাঞ্চল্য বরিশালে
এম.কে. রানা, বরিশাল
প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪৭ পিএম
প্রতীকী ছবি
আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সড়ক অবরোধ, মিছিল এবং ককটেল-পেট্রল বোমা নিক্ষেপের অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ২৪৮ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে বরিশালে একটি নালিশি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে মামলার আসামির তালিকায় চারজন মৃত নেতার নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা ও মামলার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বরিশাল অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতা মারজুক আব্দুল্লাহ এ মামলা দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সড়ক অবরোধ, মিছিল এবং ককটেল-পেট্রল বোমা নিক্ষেপের মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি ও দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করেছেন। বিচারক এস এম শরীয়ত উল্লাহ অভিযোগ আমলে নিয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনারকে তদন্তের নির্দেশ দেন।
মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ, সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ, জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এ কে এম জাহাঙ্গীর, সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু, সাবেক প্যানেল মেয়র জিয়াউর রহমান বিপ্লব, রফিকুল ইসলাম খোকনসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী।
তবে মামলার তালিকায় থাকা ২১২ নম্বর আসামি খন্দকার রেজাউর রহমান রেজা ২০২২ সালের ২২ জানুয়ারি, ১৯৮ নম্বর আসামি আবুল ফারুক হুমায়ুন ২০২৩ সালের ২৫ মার্চ, ২২৫ নম্বর আসামি এইচ এম হাফিজুর রশিদ ২০২১ সালের ১৯ অক্টোবর এবং ১৯৫ নম্বর আসামি মোহাম্মদ আলী হাওলাদার ২০২১ সালের ২৬ জুলাই মারা যান। অথচ মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, তারা গত ১০ জুন নগরীতে আওয়ামী লীগের ব্যানারে মিছিল করে ককটেল ও হাতবোমা নিক্ষেপে অংশ নিয়েছিলেন।
এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বরিশাল সিটির ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর রাজীব হোসেন খান বলেন, মামলাটি ভুয়া হওয়ার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো মৃত ব্যক্তিদের আসামি করা। যারা বহু আগে মারা গেছেন, তারা কীভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ককটেল নিক্ষেপ করবেন—এ প্রশ্নও তোলেন তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মহানগর আওয়ামী লীগের এক নেতা দাবি করেন, মৃত চারজনই বরিশালে সুপরিচিত ব্যক্তি এবং তাদের মৃত্যুর বিষয়টি সর্বজনবিদিত। তাই তাদের আসামি করায় মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে মামলার বাদী মারজুক আব্দুল্লাহ বলেন, খন্দকার রেজাউর রহমান রেজার নাম সাক্ষীদের ভুল তথ্যের কারণে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। বাকি তিনজনের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলেও দাবি করেন। তার ভাষ্য, সাক্ষীদের ভুল তথ্যের কারণেই এ ধরনের ভুল হয়েছে।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাজিব মজুমদার জানান, নালিশি মামলায় অস্ত্র আইন, বিস্ফোরক দ্রব্য আইন, সন্ত্রাসবিরোধী আইন এবং হত্যার হুমকিসহ বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে মৃত চার ব্যক্তির নাম আসামির তালিকায় থাকায় মামলার তথ্যের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
