নূরুল ইসলাম বুলবুল
‘ঢাকার সব আসনে জিতলেও পরিকল্পিতভাবে জামায়াতকে হারানো হয়েছে’
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৯:১০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি বলেছেন, “জামায়াতে ইসলামী ঢাকার সবকটি আসনে বিজয়ী হলেও পরিকল্পিত (মেটিকুলাস) ডিজাইনের মাধ্যমে সেই বিজয় কেড়ে নেওয়া হয়েছে।”
শুক্রবার (১০ জুলাই) কোতোয়ালী দক্ষিণ থানা ইউনিটের দায়িত্বশীল শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, “হাজারো প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে জামায়াতে ইসলামী জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে রাজপথে ছিল। সে কারণেই জনগণ দলটিকে রাষ্ট্রক্ষমতায় দেখতে ভোট দিয়েছিল। কিন্তু ভোট জালিয়াতির মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীকে মূলধারার রাজনীতিতে (মেইনস্ট্রিমে) আসতে দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানও স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভেতরে ও বাইরে থেকে গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া হয়নি।”
তিনি বলেন, “সমাজের মানুষের কাছে জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের মানবিক নেতৃত্বের যে পরিচিতি রয়েছে, তা ধরে রাখতে হবে। প্রত্যেক দায়িত্বশীলকে নিজের দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। চেষ্টা ছাড়া আল্লাহর সাহায্য আশা করা যায় না। আবার আল্লাহর সাহায্য ছাড়া ইকামতে দ্বীনের দায়িত্ব পালনও সম্ভব নয়।”
দায়িত্বকে আমানত উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে না পারলে তা আমানতের খেয়ানত হবে। তাই দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। মৌলিক মানবীয় গুণাবলির বিকাশ ঘটিয়ে জনগণের সেবায় নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। তবেই সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব।”
তিনি আরো বলেন, “আমিরে জামায়াতের বক্তব্যের প্রতিচ্ছবি হতে হবে কর্মীদের কার্যক্রম। মানুষ আমিরে জামায়াতকে সার্বক্ষণিক দেখে না, কিন্তু কর্মীদের দেখে। তাই কর্মীদের আচরণ ও কার্যক্রম সংগঠনের নীতি-আদর্শের আলোকে পরিচালিত হতে হবে। একজন কর্মীর মধ্যে যেন মানুষ জামায়াতে ইসলামীকে খুঁজে পায়, সে লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। অতীতের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ভবিষ্যতেও মানুষের পাশে মানবিক ভূমিকা পালন করতে হবে।”
শিক্ষাশিবিরে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর আব্দুস সবুর ফকির বলেন, “দেশে যত ইসলামী আন্দোলনের কথা বলা হয়, তার মধ্যে একমাত্র জামায়াতে ইসলামীই প্রকৃত অর্থে দ্বীন কায়েমের আন্দোলন করছে। এ আন্দোলনের জন্য দলটির কর্মীরা সব সময় মাল ও জান কোরবানি দিতে প্রস্তুত থেকেছে।”
তিনি বলেন, “জামায়াতে ইসলামী কখনো দ্বীন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে কাদা ছোড়াছুড়ির রাজনীতি করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না। ইসলামী আন্দোলনের দাবিদার অন্য কিছু সংগঠন দ্বীন প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে শুধু জামায়াতে ইসলামীর বিরোধিতাতেই ব্যস্ত। তাদের কেউ কেউ জামায়াতের নেতাকর্মীদের জবাই করার মতো উসকানিমূলক বক্তব্যও দিচ্ছে। যে ভাষায় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ কথা বলত, তারাও একই ভাষা ব্যবহার করছে। এ কারণেই জনগণ বুঝে গেছে, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ও তাদের মধ্যে মৌলিক কোনো পার্থক্য নেই।”
তিনি আরো বলেন, “তাদের কর্মকাণ্ডে তাদের নিজেদের অনেক নেতাকর্মীও বিব্রত ও বিরক্ত হয়ে সত্য ও ন্যায়ের সন্ধানে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিচ্ছেন, আলহামদুলিল্লাহ। জামায়াতে ইসলামী সত্য ও ন্যায়ের ওপর অবিচল থেকে দ্বীন কায়েমের আন্দোলন চালিয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ। ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে দেশের জনগণ একটি মানবিক ও কল্যাণরাষ্ট্র পাবে।”
মহানগরীর মজলিসে শুরা সদস্য ও কোতোয়ালী দক্ষিণ থানা আমীর মো. মতিউর রহমানের সভাপতিত্বে এবং থানা সেক্রেটারি মো. ইকবাল হোসেনের সঞ্চালনায় মহানগরী কার্যালয়ের হলরুমে অনুষ্ঠিত শিক্ষাশিবিরে আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান এবং মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য ও অফিস সেক্রেটারি কামরুল আহসান হাসান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক, মাওলানা আব্দুল জব্বার, মাওলানা আ ফ ম আইউব, মো. আশ্রাফুজ্জামান সুজনসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
