×

প্রবাস

এক স্ত্রী নিয়ে জীবন কাটানো খুবই গরিবি অবস্থা

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৩, ০৯:২৯ পিএম

এক স্ত্রী নিয়ে জীবন কাটানো খুবই গরিবি অবস্থা
এক স্ত্রী নিয়ে জীবন কাটিয়ে দিচ্ছি। এমন কথা শুনে আরব গাড়ি চালক জাকারিয়া ‘হারাম হারাম’ বা এমন কিছু ধ্বনি করতে থাকেন। দ্রুত গুগল ‘ট্রান্সলেট এন্ড টক’ অ্যাপসটি চালু করতে হয়। অনুবাদে যা বুঝা গেল, তা হচ্ছে এক স্ত্রী নিয়ে জীবন কাটানো খুবই গরিবি অবস্থা। মিশর থেকে সৌদি আরবে জাকারিয়া এসেছেন বছর বিশেক আগে। মিশরে তার স্ত্রী আছেন। এখানেও আপাতত একটা বিয়ে করেছেন। আরও দুইজনকে বিয়ে করার প্রক্রিয়ায় আছেন। সৌদি আরবে ভিন দেশের কেউ কিছু করতে পারে না। এ দেশ কাউকে নাগরিকত্ব দেয় না। পূর্ব পশ্চিমের ব্যবসায়ীরা সহজেই এখানে একটা বিয়ে করে ফেলতে পারেন। সৌদি নারীদের কিছুটা বয়স্ক হয়ে পড়লেই তালাক দিয়ে দেয়া হয়। এসব তালাকপ্রাপ্ত নারী তখন বাইরে থেকে আসা লোকজনকে বিয়ে করেন। বিয়ে করলে রেসিডেন্সি পাওয়া সম্ভব হয়। বাংলাদেশের বেশ কিছু ব্যবসায়ীকে এমন পাওয়া গেল। এ নিয়ে যাদের সাথেই আলাপ হলো, তারা বললেন ধর্মের কথা। বললেন, ব্যবসা বাণিজ্য বড় কথা নয়। আল্লাহর ঘরের পাশে মারা যেতে চান। এতে নাকি বেহেশতে যাওয়া সহজ হবে। একেকজন সৌদি পুরুষ চার জন নারী নিয়ে ঘুরছেন। আড় চোখে নয়, বেশ চেষ্টা করেও কারও মুখমণ্ডল দেখার সুযোগ পেলাম না। আয়েশা ও সারা নামের দুই স্থানীয় নারীকে পেয়ে গেলাম পারফিউমের দোকানে। সাথে থাকা যুবক গাইডটি জানালেন, মেয়েরা ছেলেদের সাথে কথাই বলতে চায় না। একদম শিশু থেকেই তাদের বিচ্ছিন্ন হয়ে বেড়ে উঠা। সাহস করে কথা শুরু করি। আমেরিকা থেকে এখানে ভিজিটে এসেছি এবং সৌদি নারীদের নিয়ে জানার আগ্রহের কথা জানালাম। কমিউনিকেট করা যায় এমন ইংরেজিতে তারা আমার পেশা জানতে চাইলেন। বেশ আগ্রহ নিয়ে কথাও বললেন। ছবি উঠানোর কথা বললে বেশ উৎসাহ নিয়েই কাছে দাঁড়ালো তারা। পোশাক ভিন্ন হলেও আলাপে তারা বেশ জমিয়েই রাখলেন বেশ কিছু সময়। ওপেন এন্ডেড প্রশ্ন করে কৌশলে তাদের কাছ থেকে বেশি শোনার চেষ্টা করলাম। জড়তা ছাড়াই তারা কথা বলেছে। সাথে থাকা গাইড যুবকটি তো অবাক হয়ে যায়। বেশ কিছু নারীকে গাড়ি চালাতে দেখি। মূলধারার কাজকর্মেও যুক্ত হচ্ছে ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত নারীরা। পুরুষ গাইডটি সৌদি নারীদের এ জাগরণ পছন্দ করলেন বলে মনে হলো না। জাকারিয়া পরামর্শ দিলেন, দুইজনের সাথে নয়, আলাদা করে কথা বলতে হবে। স্পষ্টত জাকারিয়া ইংরেজি কথার একটা শব্দও না বুঝে ধরে নিয়েছে, বিয়ের আলাপ হয়ে যাচ্ছে। এ সমাজে নারীকে বিয়ে এবং সন্তান উৎপাদনের অনুষঙ্গই মনে করে অধিকাংশই। সৌদি লোকজন খাবারের জন্য আয়েশ করে বসা। বিশাল থালার মধ্যে আসা খাবার। চার স্ত্রী গোল হয়ে বসেছে। পুরুষের পাশে সর্বকনিষ্ঠজন। পৃথক কুপে এমন একটা আসনে নিজেও বসলাম। একেকজন মুখ ঢাকা কালো কাপড়ের আচ্ছাদন সরিয়ে কেমন করে খাচ্ছে তা দেখছিলাম অবাক হয়ে। এ নিয়ে লেখার বেশ উপাদান সংগ্রহে আসায় ভালো লাগছিল। নিউজার্সিতে রেখে আসা আমার মেয়ের মুখ ভাসছিল। মেয়েকে এ গল্প শোনাতে হবে! লেখক: ইব্রাহীম চৌধুরী, সম্পাদক, প্রথম আলো নর্থ আমেরিকা

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল

ফ্রিল্যান্সিং ও কনটেন্ট ক্রিয়েশনে করমুক্তির প্রস্তাব

ফ্রিল্যান্সিং ও কনটেন্ট ক্রিয়েশনে করমুক্তির প্রস্তাব

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে উৎসে কর কমানোর সুপারিশ

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে উৎসে কর কমানোর সুপারিশ

মমতাকে দলে ফিরে যেতে কংগ্রেসের প্রস্তাব

মমতাকে দলে ফিরে যেতে কংগ্রেসের প্রস্তাব

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App