×

রাজশাহী

পুশ-ইন ইস্যুতে সীমান্তজুড়ে উদ্বেগ, টাকার লোভে ব্যবহৃত হচ্ছে দরিদ্র মানুষ

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৫:৫০ পিএম

পুশ-ইন ইস্যুতে সীমান্তজুড়ে উদ্বেগ, টাকার লোভে ব্যবহৃত হচ্ছে দরিদ্র মানুষ

ছবি : সংগৃহীত

সীমান্ত এলাকায় নতুন করে পুশ-ইন নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। অভিযোগ উঠেছে, বিভিন্ন সীমান্তবর্তী অঞ্চল দিয়ে নারী-পুরুষকে বাংলাদেশে ঢোকানোর চেষ্টা করছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। যদিও বিজিবির কঠোর নজরদারির কারণে অনেক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হচ্ছে, তবুও সীমান্ত এলাকার কিছু দরিদ্র মানুষকে অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে এসব কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, বিজিবির টহলের সময় ও অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ এবং অনুপ্রবেশের সুবিধাজনক পথ নির্ধারণে কিছু স্থানীয় ব্যক্তিকে কাজে লাগানো হচ্ছে। এতে পুশ-ইনের চেষ্টা আরও সংগঠিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রোকনপুর সীমান্ত এলাকায় গিয়ে জানা যায়, নদীপথ এখন অনুপ্রবেশের নতুন রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আগে যেখানে কাঁটাতারের বেড়া ও স্থলপথে কড়াকড়ি ছিল, সেখানে এখন রাত কিংবা ভোরের অন্ধকারে নদীপথ ব্যবহার করে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছেও এমন কয়েকটি ঘটনার তথ্য রয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্তবর্তী দরিদ্র কিছু বাংলাদেশিকে টাকার বিনিময়ে এসব কাজে যুক্ত করছে বিএসএফ। অভিযোগ রয়েছে, একজনকে বাংলাদেশে পুশ-ইনে সহায়তা করতে পারলে প্রায় ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে।

বিভিন্ন সূত্র বলছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় রয়েছে। তারা প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা স্থানীয় যোগাযোগের মাধ্যমে বিজিবির টহল ও অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে। পরে সেই তথ্য দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। এসব তথ্য ব্যবহার করে অনুপ্রবেশের সময় ও পথ নির্ধারণ করা হয়।

রোকনপুর সীমান্তসংলগ্ন নগরপাড়া গ্রামে এ ঘটনায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ওই গ্রামের সাতজনকে পুশ-ইনে সহায়তার অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেফতার করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বাবুল দাবি করেন, সীমান্ত এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি নিয়মিত বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন এবং সীমান্ত পরিস্থিতির বিভিন্ন তথ্য আদান-প্রদান করেন। তার অভিযোগ, কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশে সহায়তা করলে ব্যক্তি প্রতি ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত দেওয়া হয়।

একই এলাকার আরেক বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, এসব বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলা ঝুঁকিপূর্ণ। তার দাবি, সীমান্তের কিছু চোরাকারবারি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং একই সঙ্গে পুশ-ইন কার্যক্রমেও সহায়তা করছে। এমনকি তাদের কেউ কেউ সরাসরি বিএসএফ সদস্যদের সঙ্গে ভিডিও কলে যোগাযোগ করে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার ভাষ্য, সীমান্তে সক্রিয় একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে নানা অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে বিজিবির গতিবিধি ও সীমান্তসংক্রান্ত তথ্য অর্থের বিনিময়ে বিএসএফকে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

তবে সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী জনগণকে টাকার প্রলোভনে কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইসলাম মাসুম বলেন, বিএসএফ সীমান্ত এলাকার গরিব ও অসহায় মানুষদের টার্গেট করছে। সম্প্রতি পাঁচজনকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা হয়েছিল, পরে তদন্তে কিছু বাংলাদেশি নাগরিকের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। তিনি জানান, একজনকে পুশ-ইনে সহায়তার জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে এবং এ অভিযোগে সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ.এন.এম. ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, সীমান্ত এলাকায় কিছু বাংলাদেশি নাগরিকের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, একটি সংঘবদ্ধ চক্র অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে এসব কর্মকাণ্ডে সহায়তা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং কারা এ চক্রের সঙ্গে জড়িত, তা শনাক্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

২২ লাখ শিক্ষার্থীর আসরে চ্যাম্পিয়ন বাকেরগঞ্জ ও সাঁথিয়া

২২ লাখ শিক্ষার্থীর আসরে চ্যাম্পিয়ন বাকেরগঞ্জ ও সাঁথিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ‘বাজি’ ধরলে কখনো ‘পস্তাতে হবে না’

রাষ্ট্রদূত যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ‘বাজি’ ধরলে কখনো ‘পস্তাতে হবে না’

নগরবাসীকে ডেঙ্গুমুক্ত শহর উপহার দিতে মাঠে ডিএনসিসির কর্মীরা

ডিএনসিসি প্রশাসক নগরবাসীকে ডেঙ্গুমুক্ত শহর উপহার দিতে মাঠে ডিএনসিসির কর্মীরা

প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ টুর্নামেন্টের ফাইনাল দেখতে আর্মি স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী

প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ টুর্নামেন্টের ফাইনাল দেখতে আর্মি স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App