প্রতিবন্ধী কার্ড আছে, ভাতা নেই: ১০ বছর ধরে অপেক্ষা দুই ভাইয়ের
মো. পারভেজ সরকার, রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৪:৪৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
এক ভাইয়ের এক চোখে আলো নেই, আরেক ভাইয়ের একটি পা জন্মগতভাবে বাঁকা। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে সঙ্গী করে জীবনের সঙ্গে লড়াই করে যাচ্ছেন সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার দুই সহোদর মো. রুবেল সেখ (৩৯) ও মো. আশিদুল ইসলাম (৩১)।
তাদের হাতে রয়েছে প্রতিবন্ধী পরিচয়পত্র (সুবর্ণ নাগরিক কার্ড)। কিন্তু সেই পরিচয়পত্র পাওয়ার পরও কেটে গেছে প্রায় ১০ বছর। এখনো জোটেনি সরকারি প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড। সহায়তার আশায় উপজেলা পরিষদ, সমাজসেবা কার্যালয় ও ইউনিয়ন পরিষদে ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন তারা।
জানা যায়, রুবেল সেখ জন্ম থেকেই এক চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। ছোট ভাই আশিদুল ইসলামের একটি পা জন্মগতভাবে বাঁকা। শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে স্বাভাবিক কাজ করাও তাদের জন্য কঠিন।
তবু জীবন থেমে নেই। সংসারের হাল ধরতে রুবেল স্থানীয় বাজারে ছোট একটি চায়ের দোকান পরিচালনা করেন। আর আশিদুল দিনমজুরের কাজ করে কোনো রকমে সংসার চালান। তবে শারীরিক সমস্যার কারণে নিয়মিত কাজ করাও অনেক সময় সম্ভব হয় না।
দুই ভাই জানান, ২০১৬ সালে প্রতিবন্ধী ভাতার আশায় আবেদন করেন তারা। পরে প্রতিবন্ধী পরিচয়পত্র পেলেও ভাতার তালিকায় আর নাম ওঠেনি। এরপর থেকে বারবার সমাজসেবা অফিস ও ইউনিয়ন পরিষদে যোগাযোগ করেও কোনো সমাধান পাননি।
রুবেল সেখ বলেন, আমরা দুজনই প্রতিবন্ধী। ভাতার জন্য অনেকবার আবেদন করেছি। অফিসে গেলে শুধু অপেক্ষা করতে বলা হয়। কেউ কেউ কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে টাকা চেয়েছেন। কিন্তু এখনো কোনো সহায়তা পাইনি। আশিদুল ইসলাম বলেন, দিনমজুরি করে সংসার চালাই। শরীরের সমস্যার কারণে সব সময় কাজ করতে পারি না। সরকারি সহায়তার আশায় ১০ বছর ধরে ঘুরছি, কিন্তু এখনো কোনো ফল পাইনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রকৃত প্রতিবন্ধীদের দ্রুত যাচাই করে সরকারি সহায়তার আওতায় আনা দরকার। এতে রুবেল ও আশিদুলের মতো অসহায় মানুষ কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবেন।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. ইলিয়াস হোসাইন বলেন, বিষয়টি আগে আমার জানা ছিল না। এখন বিষয়টি জানলাম। দ্রুত খোঁজ নিয়ে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
