পদ্মায় নৌকাডুবি: দুদিন পর মিলল বাবা-ছেলের মরদেহ
রাজশাহী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৬:২৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
রাজশাহীর পদ্মা নদীতে ইঞ্জিনচালিত নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ হওয়া বাবা ও ছেলের মরদেহ দুই দিন পর পৃথক স্থান থেকে উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ।
বৃহস্পতিবার সকালে কুষ্টিয়ার পদ্মা নদী থেকে নৌকার মাঝি কাওসার আলীর (৬০) মরদেহ এবং দুপুরে রাজশাহীর পবা উপজেলার সাতবাড়িয়া চর এলাকা থেকে তাঁর ছেলে জিয়ারুল হকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রবল স্রোতের কারণে দুর্ঘটনাস্থল থেকে অনেক দূরে ভেসে যাওয়ায় তাদের সন্ধান পেতে দুই দিন সময় লাগে বলে জানিয়েছে নৌ পুলিশ। নিহত কাওসার আলী ও তাঁর ছেলে জিয়ারুল হক রাজশাহীর কাটাখালি থানার শ্যামপুর শান্তিনগর এলাকার বাসিন্দা।
নৌ পুলিশ, রাজশাহী অঞ্চলের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নৌকাডুবির পর থেকেই নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল যৌথভাবে পদ্মা নদীর বিভিন্ন স্থানে টানা উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। তবে নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় মরদেহ দুটি ঘটনাস্থল থেকে অনেক দূরে ভেসে যায়।
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে কুষ্টিয়ার বাংলাবাজার পাকশী সেতু-সংলগ্ন পদ্মা নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে নৌ পুলিশ গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে এবং সেটি নৌকার মাঝি কাওসার আলীর বলে শনাক্ত করে। একই দিন বেলা ১টার দিকে রাজশাহীর পবা উপজেলার সাতবাড়িয়া চর এলাকার পদ্মা নদী থেকে তাঁর ছেলে জিয়ারুল হকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দুটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নৌ পুলিশের এই কর্মকর্তা।
এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহীর চর মাজারদিয়ার এলাকা থেকে আটজন যাত্রী ও ঝাউগাছ বোঝাই করে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা লালন শাহ মুক্তমঞ্চের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। মাঝনদীতে পৌঁছানোর পর আকস্মিকভাবে সৃষ্ট বড় ঢেউয়ের কবলে পড়ে নৌকাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডুবে যায়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় নৌকায় থাকা ছয়জন যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও মাঝি কাওসার আলী ও তাঁর ছেলে জিয়ারুল হক নিখোঁজ হন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরবর্তী দুই দিন পদ্মা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশি চালানোর পর বৃহস্পতিবার পৃথক দুটি স্থান থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে পদ্মা নদীতে স্রোতের তীব্রতা ও বড় ঢেউয়ের কারণে নৌযান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ ঘটনায় নদীপথে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং ছোট নৌযান চলাচলে প্রয়োজনীয় সতর্কতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
