ফ্যামিলি কার্ড ইস্যুতে নিয়োগ নিয়ে বিক্ষোভ, নাচোলে সরকারি দপ্তরে তালা
নাচোল প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৪:০৫ পিএম
ছবি: ভোরের কাগজ
ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে বিক্ষোভ করেছেন বিএনপি, ছাত্রদল ও নিয়োগবঞ্চিত সাধারণ আবেদনকারীরা।
সোমবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ বিক্ষোভ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভের একপর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়সহ কয়েকটি সরকারি দপ্তরের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এতে সরকারি দপ্তরগুলোর কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন।
বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, ফ্যামিলি কার্ড শুমারির নিয়োগ তালিকায় অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের পদধারী নেতা এবং জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এ অনিয়মের প্রতিবাদ এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রিয়াংকা দাস ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সোহেল রানার অপসারণের দাবিতে ছাত্রদল ও বিএনপির নেতাকর্মী এবং নিয়োগবঞ্চিতরা একত্র হন।
পরে তাঁরা ইউএনও কার্যালয়, সমাজসেবা কার্যালয়, শিক্ষা অফিস ও এলজিইডিসহ প্রধান প্রধান দপ্তরের গেটে তালা লাগিয়ে দেন। তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার পর বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা ইউএনও কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। সেখানে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে বিক্ষোভ করেন তাঁরা।
সমাবেশে বক্তব্য দেন নাচোল উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি শফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের খোকন, পৌর বিএনপির সহসভাপতি আমানুল্লাহ আল মাসুদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক দুরুল হোদা, কসবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আল মেহরাব জাকারিয়া, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক হামিদুর রহমান মুকুল, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আজিম এবং ছাত্রদল নেতা নাহিদ ও রোমিওসহ স্থানীয় নেতারা।
সমাবেশে বক্তারা ফ্যামিলি কার্ড শুমারির সদ্য প্রকাশিত নিয়োগের ফলাফল অবিলম্বে বাতিল করে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার ভিত্তিতে পুনরায় নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর দাবি জানান। তাঁরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিতর্কিত ফলাফল বাতিল এবং সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তাকে অপসারণ করা না হলে নাচোল উপজেলার সব সরকারি কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হবে। এ ছাড়া আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এ বিষয়ে নাচোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রিয়াংকা দাস বলেন, ‘স্বচ্ছতার ভিত্তিতেই ফলাফল দেওয়া হয়েছে। এটা স্বাধীন দেশ, সবাই দাবি-দাওয়া করতে পারে।’ বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। প্রিয়াংকা দাস আরও বলেন, বিকেল তিনটা পর্যন্ত বিক্ষুব্ধরা সরকারি অফিসগুলোর তালা খোলেননি। এতে সেবা প্রদান ব্যাহত হচ্ছে।
