‘যৌক্তিক কারণ ছাড়া প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ালে কঠোর জবাবদিহিতা’
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অযৌক্তিক বিলম্ব ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। যৌক্তিক কারণ ছাড়া কোনো প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বাস্তবায়নকারী সংস্থাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) থেকে পরামর্শক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে একনেক চেয়ারপারসন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ডিপিপিতে থাকা পরামর্শক ব্যয় পর্যালোচনা করে তা উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, যৌক্তিক কারণ ছাড়া কোনো প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো যাবে না। মেয়াদ বাড়ানোর প্রয়োজন হলে বাস্তবায়নকারী সংস্থাকে সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করে আবেদন করতে হবে। এসব কারণ কঠোরভাবে যাচাই করা হবে। যথাযথ কারণ ছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব হলে দায়ী কর্মকর্তা ও সংস্থাকে জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে।
জোনায়েদ সাকি বলেন, অনুমোদিত সময়সীমা ও নির্ধারিত বাজেটের মধ্যেই চলমান এবং নতুন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও প্রচলিত পদ্ধতিতে পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে সম্ভাব্যতা যাচাই না করে তা যথেষ্ট গভীরতা ও কারিগরি নির্ভুলতার সঙ্গে সম্পন্ন করতে হবে। এতে পরবর্তী সময়ে প্রকল্পের নকশা পরিবর্তন, ব্যয় বৃদ্ধি ও বাস্তবায়নসংক্রান্ত জটিলতা কমানো সম্ভব হবে।
এদিকে যশোর, সৈয়দপুর ও শাহ মখদুম বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পে প্রক্রিয়াগত অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০২৩ সালে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (সিসিজিপি) যে বাজেট সমন্বয় করেছিল, তা যথাসময়ে ডিপিপিতে প্রতিফলিত হয়নি। এ বিষয়টি খতিয়ে দেখতে আনুষ্ঠানিক তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) ইতোমধ্যে আটটি প্রকল্পের তদন্ত প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দিয়েছে। আরও চারটি প্রকল্পের প্রতিবেদন শিগগিরই জমা দেওয়া হবে। প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নিতে এসব প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগে পাঠানো হচ্ছে।
আঞ্চলিক বৈষম্য কমানোর উদ্যোগের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রংপুর বিভাগের গ্রামীণ এলাকায় সড়ক, কালভার্ট ও সেতু নির্মাণে ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকার একটি অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করার পাশাপাশি আঞ্চলিক অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানোর লক্ষ্য রয়েছে।
ডিজিটাল শাসন ও আর্থিক তদারকি জোরদার করতেও সরকার কাজ করছে বলে জানান জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেন, উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটির অধীনে আটটি গুরুত্বপূর্ণ অটোমেশন উদ্যোগকে সমন্বিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি), সমন্বিত বাজেট ও হিসাবরক্ষণ ব্যবস্থা (আইবাস++), বাংলাদেশ ব্যাংক এবং ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান নম্বর, ওয়ান ওয়ালেট’ভিত্তিক অটোমেশন ব্যবস্থা।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন ডিজিটাল ব্যবস্থার মধ্যে আন্তঃকার্যক্ষমতা নিশ্চিত করা গেলে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা বিতরণে মানুষের হস্তক্ষেপ কমানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতে ডিজিটাল নজরদারি আরও জোরদার করা যাবে।
এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ খেলাপি ঋণ (এনপিএল) ও আর্থিক অনিয়ম প্রতিরোধে তদারকি বাড়াতেও সহায়ক হবে বলে জানান তিনি।
