অবৈধ দোকানে ঠাঁসা, বৈধতে বাধা
বাদল আহাম্মদ খান, আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪১ পিএম
ছবি: ভোরের কাগজ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় রেলওয়ে জংশন স্টেশনে প্রবেশ করার মুখে পশ্চিমদিকের উত্তর থেকে দক্ষিণপ্রান্ত পর্যন্ত ২০টির বেশি অবৈধ দোকান রয়েছে। এর সামনের অংশে অবৈধ অটোরিকশা স্ট্যান্ড। দিনের পর দিন অবৈধ দখল বেড়েই চলছে। তবে অবাক করা বিষয় হলো, এখানে বৈধভাবে দোকান বরাদ্দ পেয়েও বাধার মুখে পড়েছেন এক প্রবাসী। প্রভাবশালীদের বাধার মুখে দোকান নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একটি চক্র এখানে সুযোগ বুঝে একের পর এক দোকান নির্মাণ করছে। স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে দোকান বসাচ্ছেন। প্রতিদিন এসব দোকান থেকে টাকা উঠানোর জন্য লোক নিয়োগ করা আছে। ওই টাকা মাস শেষে বিভিন্নজনের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়।
স্থানীয়রা জানান, স্টেশনের সামনের ওই জায়গাটিতে একটি মার্কেট ছিলো। প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কয়েক বছর আগে মার্কেটটি উচ্ছেদ করে দেওয়া হয়। ক্ষতিগ্রস্তরা অবশ্য দাবি করেন, তাদেরকে যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরানো হয়নি।
আরও পড়ুন: ফুফুর কক্ষে বাক্সে পাওয়া গেল নিখোঁজ শিশুর মরদেহ
এদিকে সম্প্রতি তাদেরকে বাদ দিয়ে একটি চক্র এখানে একের পর এক ছোট ছোট দোকান নির্মাণের সুযোগ করে দেয়। এসব নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারিও হয়। প্রভাব বিস্তারে যিনি এগিয়ে থাকেন তিনিই ঘর তুলতে পারেন। এভাবে ঘর তুলতে থাকায় স্টেশন এলাকার সৌন্দর্য্যও নষ্ট হয়। বিশেষ করে অটোস্ট্যান্ডের কারণে যাত্রীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়। অটোরিকশা চালকদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়েরও অভিযোগ রয়েছে।
দোকান নির্মাণ করতে না পারা প্রসঙ্গে আখাউড়া উপজেলার হীরাপুর গ্রামের বাসিন্দা ও বর্তমানে ফ্রান্স প্রবাসী এস এম ইনামুল হক ভূঁইয়া জানান, স্টেশন-সংলগ্ন এলাকায় তিনি একটি ক্যান্টিন নির্মাণের অনুমতি পান। ১৪ সেপ্টেম্বর রেলওয়ের বিভাগীয় কর্মকর্তার কার্যালয়, ঢাকা থেকে এ বরাদ্দ দেওয়া হয়। স্টেশনের ১নং প্লাটফরমে থাকা ওভারব্রিজের পাশে ৩০০ স্কয়ার ফুট জায়গায় ক্যান্টিন নির্মাণের স্থান নির্ধারণ করে দেওয়া হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, ২৩ সেপ্টেম্বর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জায়গা বুঝিয়ে দেওয়ার পর তিনি কাজ করতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হন। বৃহস্পতিবার কাজ করতে গেলে এক প্রভাবশালী ব্যক্তি বাধা দেন। আলোচনা সাপেক্ষে নির্মাণ কাজ করতে বলেন।
ইনামুল হক বলেন, 'কাজটি করানোর জন্য আমি আমার মাকে দায়িত্ব দেই। আমার মা কাজ করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েন। অবৈধ কিছু দখলদার ও তাদের মদদদাতা এতে বাধা দেন। মূলত তাদের স্বার্থে আঘাত পড়বে বিধায় তারা আগ্রাসী মনোভাবও দেখান।'
ইনামুল হকের মা বলেন, 'স্টেশন এলাকায় বেশ কিছু অবৈধ দোকান আছে। এলোপাথারি যানবাহনও রাখা হয়। এসব নিয়ে ওই পক্ষটি কথা বলে না। অথচ আমার ছেলে বৈধভাবে বরাদ্দ এনে বাধার মুখে পড়েছে।'
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'কাগজপত্রে লেখা নির্দেশনা অনুযায়ী রেলওয়ের লোকজন জায়গা বুঝিয়ে দেয়। সেই জায়গাতেই নির্মাণ কাজ চলছিলো। কিন্তু কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই জোর করে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়।'
এদিকে দোকান নির্মাণের বিরুদ্ধে হওয়া মানববন্ধন থেকে উদ্দেশ্যমূলক দাবি করা হয়। বক্তারা বলেন, 'এখানে দোকান নির্মাণ হলে স্টেশনের সৌন্দর্য্য নষ্ট হবে। যাত্রীদের চলাচলে অসুবিধা হবে।' তবে আগে থেকে থাকা অবৈধ দোকানের বিষয়ে তারা কিছুই বলেননি।
৩০-৪০ জনের অংশগ্রহণে হওয়া মানববন্ধনে বেশিরভাগই ছিলেন অটোরিকশা চালক ও অবৈধভাবে দোকান করে রাখা লোকজন। তাদের সঙ্গে যোগ দেন বিএনপির সাবেক দুই নেতা। মানববন্ধনে অংশগ্রহণের একাধিক মাইক বের করা হলেও এতে তেমন সাড়া মিলেনি।
অটোরিকশা স্ট্যান্ড শ্রমিকের সভাপতি মো. রুহুল আমিন বলেন, 'এখানে নতুন দোকান হলে স্টেশনের সৌন্দর্য্য নষ্ট হবে। দোকান যেন না হয় সেজন্য মানববন্ধন করেছি।'
আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনের সুপারিনটেনডেন্ট মো. নুরুন্নবী বলেন, 'কাগজপত্র দেখে রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী জায়গা বুঝিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে কাজ বন্ধ করে দেওয়াসহ সার্বিক বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।'
