নীলফামারীতে কালবৈশাখী তাণ্ডবে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি
মো. রাজীব চৌধুরী রাজু, নীলফামারী থেকে
প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৬, ০৩:৩৯ পিএম
ছবি : ভোরের কাগজ
নীলফামারীর বিভিন্ন উপজেলায় মধ্যরাতে আঘাত হানে কালবৈশাখী ঝড়। তীব্র শিলাবৃষ্টির সঙ্গে এই আকস্মিক দুর্যোগে কৃষি ও জনজীবনে নেমে আসে ব্যাপক বিপর্যয়। শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাতভর ডোমার উপজেলা, ডিমলা উপজেলা, জলঢাকা উপজেলা ও সদর উপজেলাজুড়ে থেমে থেমে ঝড়ের সঙ্গে তীব্র শিলাবৃষ্টি হয়। কোথাও কোথাও বড় আকারের শিলার স্তূপ জমে ফসলি জমি মুহূর্তেই ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা জানান, ঝড়ের সঙ্গে বড় বড় শিলার আঘাতে কয়েক মিনিটের মধ্যেই সবকিছু লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। অনেকেই গভীর রাতে ঘুম ভেঙে আতঙ্কে পরিবার নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটেছেন। তাদের মতে, গত কয়েক বছরের মধ্যে এমন তীব্র শিলাবৃষ্টি দেখা যায়নি।
কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিলাবৃষ্টিতে আলু, গম, ভুট্টা, মরিচ, বাদাম, তামাক ও কলাসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কোথাও গাছের পাতা ঝরে গেছে, কাঁচা ফল নষ্ট হয়ে পড়েছে। অনেক জমিতে দাঁড়িয়ে থাকা ফসল মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে, যা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করেছে।
ডিমলা উপজেলার কৃষক হামিদুল ইসলাম বলেন, হঠাৎ করেই ঝড়ের সঙ্গে বড় বড় শিলা পড়তে শুরু করে। কয়েক মিনিটেই সব শেষ হয়ে গেছে। আগে আলুতে ক্ষতি হয়েছিল, এখন অন্য ফসলও রক্ষা পেল না।
ডোমারের চিলাহাটি এলাকার কৃষক সুমন মিয়া জানান, শিলার আঘাতে কলা ও মরিচের খেত মাটিতে নুয়ে পড়েছে। এত কষ্ট করে চাষ করেছিলাম, এখন সব শেষ।
শুধু কৃষিক্ষেত্রেই নয়, বসতবাড়িতেও দেখা দিয়েছে দুর্ভোগ। শিলার আঘাতে অসংখ্য টিনের ঘরের চাল ফুটো হয়ে গেছে এবং অনেক জায়গায় জানালার কাচ ভেঙে পড়েছে। গভীর রাতে বৃষ্টির পানি ঘরে ঢুকে অনেক পরিবারকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। জেলার কয়েকটি স্থানে পূজামণ্ডপ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।
ডিমলা উপজেলার আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর সবুর জানান, কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে শিলাবৃষ্টি হয়েছে এবং আগামী কয়েকদিনও ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
আরো পড়ুন : চাটমোহরে চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে পুলিশ আহত
ডোমার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, এই দুর্যোগে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়ন করে সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মঞ্জুর রহমান জানিয়েছেন, মাঠপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ শুরু হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ শেষে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হঠাৎ নেমে আসা এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক ও সাধারণ মানুষ। ক্ষতিগ্রস্তরা দ্রুত সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন, যাতে তারা ক্ষতি কাটিয়ে আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারেন।
