রংপুরে তেলের ডিপোতে বিজিবি মোতায়েন
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৬, ১০:৫৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
জ্বালানি তেল মজুতের অপচেষ্টা রোধ, বিপণনে শৃঙ্খলা রক্ষা এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে রংপুরে তেলের ডিপোতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
শনিবার (২৮ মার্চ) বিকাল থেকে রংপুর নগরীর স্টেশন বাবুপাড়া এলাকার ডিপোতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়।
যমুনা পেট্রলিয়াম রংপুর অঞ্চলের সেলস অফিসার মোহসিন আলী জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে রংপুরের পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা এই তিন ডিপোতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে, নগরীসহ পুরো রংপুর জেলায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। শুক্রবার জেলার সব ফিলিং স্টেশন জ্বালানি তেলের অভাবে পুরোপুরি বন্ধ ছিল। তবে শনিবার সকালে নগরীর মডার্ন মোড়ে একটি পাম্পে প্রতিটি মোটরসাইকেলে ২শ টাকার পেট্রল ও অকটেন দেওয়া হয়, তবে দুপুর না হতেই সেই পাম্পটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। একইভাবে নগরীর স্টেশন এলাকায় রহমান পেট্রল পাম্পে দুপুর ৩টায় এক লরি জ্বালানি তেল আসলে শত শত মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার সেখানে লাইন ধরে অপেক্ষা করে। সেখানেও ৬টার মধ্যে সব জ্বালানি বিক্রি হয়ে যায় বলে ম্যানেজার আফতাব উদ্দিন জানান।
নগরীর গুপ্তপাড়ার মোড়ে সালেক পেট্রল পাম্পে গিয়ে দেখা গেছে, দুই দিন ধরে শুধু ডিজেল ছাড়া পেট্রল ও অকটেন নেই। ম্যানেজার সালাহ উদ্দিন জানান, আগামী ১ এপ্রিল ছাড়া জ্বালানি তেল পাওয়া যাবে না বলে ডিপো থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ৬ হাজার লিটারের জায়গায় অর্ধেক ৩ হাজার লিটার জ্বালানি দেওয়া হয় বলে তারা গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে পারছেন না।
অপরদিকে, জ্বালানি তেলের অভাবে দূরপাল্লার বাস চলাচল অর্ধেক কমে গেছে। নগরীর কামারপাড়া ও কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, জ্বালানি তেল না পাওয়ায় গাড়ি বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে বেশ কয়েকজন গাড়িচালক বলেন, ‘ফিলিং স্টেশনগুলো ২০ লিটারের বেশি জ্বালানি তেল দিচ্ছে না, ফলে লং রুটে গাড়ি চালানো কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।’
পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন রংপুরের সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ শোভন বলেন, ‘টানা কয়েকদিন থেকে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো চাহিদার তুলনায় অনেক কম জ্বালানি সরবরাহ করছে। এ কারণে তেল নিয়ে সংকট দেখা দিয়েছে।’
তিনি নিরাপত্তার জন্য ফিলিং স্টেশনগুলোতে পুলিশ মোতায়েনের অনুরোধ জানান প্রশাসনের কাছে।
