শ্রমিক কর্মবিরতির ফলে রংপুরের ৮ জেলায় তেল সরবরাহ বন্ধ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৬, ০৭:২২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
তেল চুরির অভিযোগে নীলফামারীতে তিন শ্রমিককে কারাদণ্ড দেওয়ার প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছে ‘বিভাগীয় ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়ন’। এর ফলে রংপুর বিভাগের অন্তত ৮টি জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।
রোববার (২৯ মার্চ) সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করে শ্রমিকরা। পরে এতে একাত্বতা ঘোষণা করেন পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতিসহ সংশ্লিষ্টরা।
কর্মবিরতির কারণে রংপুর বিভাগের ৮ জেলাসহ উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
রোববার সকাল ৮টা থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে রেল-হেড অয়েল ডিপোর সব কার্যক্রম বন্ধ রেখে এই কর্মসূচি পালন করেন ট্যাংকলরি শ্রমিকরা।
শ্রমিকদের দাবি, শনিবার পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপোর যমুনা কোম্পানি থেকে জ্বালানি তেল নিয়ে নীলফামারী যাচ্ছিল একটি ট্যাংকলরি। পথে তেলবাহী লরির যান্ত্রিক ক্রুটি (ডায়নামার সমস্যা) দেখা দেয়। তারা গাড়ির কেবিন খুলে গাড়ির মেরামতের কাজ করছিল। এ সময় নীলফামারী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী হাকিম ও নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) নিয়াজ ভূঁইয়া ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তেল চুরির অভিযোগে ম্যানেজার একরামুল হক, চালক শ্রী কৃষ্ণ এবং চালক সহকারী রিফাতকে ৬ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন। সেই সঙ্গে ৩ জনকে মোট ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে সকাল থেকে শুরু হওয়া অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি চলছে।
রংপুর বিভাগীয় ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আতাউর রহমান জানান, অবিলম্বে জেল হাজতে পাঠানো শ্রমিককদের মুক্তির পাশাপাশি অভিযুক্ত এনডিসি নিয়াজ ভূঁইয়াকে বদলি করা না হলে কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নীলফামারীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র গণমাধ্যমকে বলেন, বিধি অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ রয়েছে।
এদিকে ট্যাংক-লরি শ্রমিকদের কর্মসূচিতে একাত্মতা ঘোষণা করার কথা জানিয়েছে রংপুর বিভাগের আট জেলার পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতিসহ সংশ্লিষ্টরা। তাছাড়া দিনাজপুর জেলা পেট্রোল পাম্প ও জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতির সভাপতি এটিএম হাবিবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক রজব আলী সরকার ট্র্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের কর্মসূচির প্রতি একাত্মতা ঘোষণা করে অনতিবিলম্বে শ্রমিকদের মুক্তি দাবি করেছেন।
