×

রংপুর

অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট সংকট

মধ্যপাড়া খনিতে পাথর উত্তোলন বন্ধ

Icon

মোস্তাফিজুর রহমান বকুল, পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬, ০৬:৩৭ পিএম

মধ্যপাড়া খনিতে পাথর উত্তোলন বন্ধ

ফাইল ছবি

আবারও বন্ধ হয়ে গেছে দেশের একমাত্র ভূগর্ভস্থ কঠিন শিলা খনি মধ্যপাড়ার পাথর উৎপাদন। খনির ভূগর্ভে পাথর কাটার কাজে ব্যবহৃত বিস্ফোরক অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের সংকটে মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল থেকে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয় উৎপাদন ঠিকাদার জিটিসি। আগামী জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে থাইল্যান্ড থেকে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট দেশে পৌঁছানোর পর পুনরায় উৎপাদন শুরু হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের (এমজিএমসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী ডি.এম. জোবায়েদ হোসেন এবং মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) সৈয়দ রফিজুল ইসলাম বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মোবাইল ফোনে পাথর উৎপাদন বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তারা জানান, থাইল্যান্ড থেকে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট আমদানি করা হচ্ছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে এটি আসতে বিলম্ব হচ্ছে। তবে এ সময় খনির রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চালিয়ে যাবে জিটিসি।

খনি সূত্রে জানা যায়, পাথর উত্তোলনের জন্য ভূগর্ভে বিস্ফোরণ ঘটাতে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটসহ বিভিন্ন বিস্ফোরক প্রয়োজন হয়। মধ্যপাড়া খনিতে বছরে ৫ থেকে ৬ কোটি টাকার বিস্ফোরক লাগে, যার সবই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। সরকারি বিভিন্ন প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিস্ফোরক আমদানিতে দীর্ঘ সময় লাগে।

এর আগে বিস্ফোরক সংকটে ২০১৪ সালে ২২ দিন, ২০১৫ সালে দুই মাস এবং ২০১৮ সালে সাত দিন পাথর উৎপাদন বন্ধ ছিল। পরে উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে উৎপাদন ঠিকাদার জিটিসিকে বিস্ফোরক আমদানির দায়িত্ব দেওয়া হয়। জিটিসি ২০২৪ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করে এবং ওই সময়ে একদিনের জন্যও বিস্ফোরকের অভাবে উৎপাদন বন্ধ হয়নি। তবে গত বছর থেকে খনি কর্তৃপক্ষ সরাসরি বিস্ফোরক আমদানি শুরু করলে সময়মতো সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। ফলে গত নয় মাসে এটি দ্বিতীয়বারের মতো উৎপাদন বন্ধ হলো।

২০০৭ সালের ২৫ মে মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনি বাণিজ্যিক উৎপাদনে যায়। ২০১৪ সাল থেকে খনির উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করছে বেলারুশের জেএসসি ট্রেস্ট সকটোস্ট্রয় এবং দেশীয় প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া করপোরেশন লিমিটেডের সমন্বয়ে গঠিত জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি)। বর্তমানে প্রায় ৭০০ দক্ষ শ্রমিক ও ইউরোপীয় প্রকৌশলীদের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার টন পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে।

২০১৮-১৯ অর্থবছর থেকে টানা পাঁচ অর্থবছরে খনিটি প্রায় ১০০ কোটি টাকা লাভ করে এবং ৪০ কোটি টাকা পেট্রোবাংলাকে পরিশোধ করে। তবে ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ঠিকাদারি বিল পরিশোধে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৩৭ কোটি টাকা এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৭ কোটি টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে। চলতি অর্থবছরেও লোকসানে রয়েছে খনিটি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

দুই মামলায় দীপু মনির জামিন নামঞ্জুর

দুই মামলায় দীপু মনির জামিন নামঞ্জুর

২ বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল ইরান

২ বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল ইরান

পুলিশের ওপর হামলা করলে আত্মরক্ষার্থে বল প্রয়োগ করা হবে

ডিএমপি কমিশনার পুলিশের ওপর হামলা করলে আত্মরক্ষার্থে বল প্রয়োগ করা হবে

প্রতিহিংসার মানসিকতা বদলাতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

প্রতিহিংসার মানসিকতা বদলাতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App