গোপনে বিদ্যালয়ের গাছ ‘বিক্রি করলেন’ প্রধান শিক্ষক
এস আই সবুজ, পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৫:০৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি মূল্যবান ইউক্যালিপটাস গাছ গোপনে কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাইদুল ইসলাম ও স্কুল পরিচালনা কমিটির সাবেক সদস্য রশিদুল ইসলাম সরকারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের পেছনে থাকা একটি বড় ইউক্যালিপটাস গাছ কোনো ধরনের প্রকাশ্য নিলাম বা প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়াই কেটে বিক্রি করা হয়েছে। গাছটি বিক্রির আগে কোনো নোটিশ বা দরপত্র আহ্বান করা হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকাবাসীর পক্ষে মো. আরিফ হোসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে ৭ জুন লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের পর শ্রীরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তার মাধ্যমে গাছের কিছু অংশ উদ্ধার করা হয়।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সাবেক এক সদস্য যোগসাজশ করে গাছটি বিক্রি করেছেন। গাছটির আনুমানিক মূল্য ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, বিদ্যালয়ের সম্পদ বিক্রির ক্ষেত্রে সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তা মানা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
অভিযোগকারী মো. আরিফ হাসান সরকার বলেন, “বিদ্যালয়ের সম্পদ ব্যক্তিগতভাবে বিক্রি করার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।” তবে অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাইদুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানানো হয়েছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ইতোমধ্যে কর্তন করা গাছটি উদ্ধার করে শ্রীরামপুর ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে রাখা হয়েছে।
শ্রীরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আনিছুর রহমান জানান, ইউএনওর নির্দেশে ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ কাটার আলামত পাওয়া যায়। পরে একটি করাতকলে পড়ে থাকা গাছের অংশের সঙ্গে গাছের গোড়ার মিল পাওয়া গেলে সেটি উদ্ধার করে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসা হয়।
স্থানীয় যুবক তানজির রাহাত সজিব বলেন, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে এবং বিদ্যালয়ের সম্পদ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে তিনি আশা করছেন।
