মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান, উল্টো মামলার অভিযোগ: প্রতিবাদে বিক্ষোভ
সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:৩৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে মাদক বিক্রির প্রতিবাদ করায় কয়েকজন শিক্ষার্থী ও যুবককে ছিনতাই মামলায় আসামি করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং অভিযুক্ত মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের গাজীর মোড় এলাকায় এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ফলগাছা গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে মাদক কারবার ও সেবনের অভিযোগ ওঠে নিজেকে সাধক দাবি করা এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। সম্প্রতি কয়েকজন শিক্ষার্থী ও যুবক মাদকবিরোধী সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম শুরু করলে তাঁদের সঙ্গে কথিত মাদক ব্যবসায়ীদের বিরোধ তৈরি হয়। একপর্যায়ে মাদক বিক্রির সময় ফারুককে আটক করতে গেলে তাঁরা হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ফারুক ৯ জন যুবকের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৮-৯ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি ছিনতাই মামলা দায়ের করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ফারুক দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাঁর কারণে তরুণ সমাজ মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। বিষয়টি একাধিকবার প্রশাসনকে জানানো হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। উল্টো মাদক প্রতিরোধে সক্রিয় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।
বক্তারা বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলনে অংশ নিয়ে যদি মানুষ মামলার মুখোমুখি হয়, তাহলে ভবিষ্যতে কেউ এমন উদ্যোগ নিতে উৎসাহ পাবে না। তাঁরা অভিযুক্ত মাদক কারবারিদের দ্রুত গ্রেপ্তার, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ দাবি করেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজমুল হুদা, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মো. সামিউল ইসলাম, জহুরুলহাট হাজী এলাহী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জহুরুল ইসলাম বাদশা, বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা শফিকুল ইসলাম শামীম, উপজেলা যুব জামায়াতের সেক্রেটারি সামিউল ইসলাম, বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন যুব জামায়াতের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক এবং শিক্ষার্থীদের অভিভাবক বিপ্লব মিয়াসহ অন্যরা।
এদিকে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে নিজেকে সাধক পরিচয়দানকারী ফারুক সরকারকে গাঁজাসদৃশ পদার্থ সেবন করতে দেখা যায় বলে দাবি করা হয়। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর এলাকাজুড়ে আলোচনা শুরু হয়। তবে ফারুক সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগও নাকচ করেন।
সুন্দরগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আবু ইকবাল পাশা বলেন, “অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ব্যক্তির আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই।”
