‘ছাদ থেকে ফেলে’ ছাত্রদল নেতাকে হত্যার অভিযোগ, ৪ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬, ০২:২৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
রংপুরের পীরগাছা থেকে নিখোঁজ এক কিশোরীকে উদ্ধারে ঢাকার সাভারে পুলিশের অভিযানের সময় ছাত্রদল নেতা মোনাারুল ইসলাম বকশীর (৩০) মৃত্যুর ঘটনায় শনিবার রাতে পীরগাছা থানার চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। শনিবার (৮ আগস্ট) রাতে তাদের রংপুর পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়।
প্রত্যাহার হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন- পীরগাছা থানার এসআই কনক রঞ্জন বর্মন, এএসআই ওসমান আলী, কনস্টেবল প্রশান্ত কুমার ও সুমী আক্তার।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ জুলাই রংপুরের পীরগাছা উপজেলার কৈকুড়ি ইউনিয়নের মোংলাকুটি গ্রামের শফিকুল ইসলাম মিন্টু তাঁর ১৫ বছর বয়সী মেয়ে মিমি আক্তার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
আরও পড়ুন: সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল সহকারী জজের
জিডির সূত্র ধরে পীরগাছা থানার এসআই কনক রঞ্জন বর্মনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মিমির অবস্থান শনাক্ত করে। পরে তাকে উদ্ধারে বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাতে সাভারের লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) স্টাফ কোয়ার্টারে অভিযান চালানো হয়।
পুলিশের ভাষ্য, অভিযানের সময় পুলিশ ভবনের নিচতলায় অবস্থান করছিল। একপর্যায়ে ছাদ থেকে কিছু একটা নিচে পড়ে যাওয়ার শব্দ শুনে পুলিশ সেখানে যায়। পরে মনোয়ারুল ইসলাম বকশীকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
স্বজনদের অভিযোগ
নিহতের স্বজনদের দাবি, মনোয়ারুলের ভাগিনা শাহরিয়ার কবির সৌমিকের সঙ্গে মিমি আক্তারের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ওই সম্পর্কের কারণে তারা বাড়ি থেকে পালিয়ে সাভারে সৌমিকের নানার বাড়িতে অবস্থান করছিল।
স্বজনদের অভিযোগ, পুলিশি অভিযানের একপর্যায়ে মনোয়ারুলকে ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করা হয়েছে। অভিযানের সময় জিডির বাদী শফিকুল ইসলাম মিন্টু ও তার শ্যালক পুলিশের পোশাকে পুলিশের সঙ্গে ছিলেন বলেও দাবি করেছেন তারা।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজনরা।
থানায় বিক্ষোভ
এ ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে নিহতের স্বজন, এলাকাবাসী ও তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মীরা পীরগাছা থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন। পরে পীরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙ্গার হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
আরও পড়ুন: মুরগির বিষ্ঠার ভাগ নিয়ে সংঘর্ষ, জামায়াতের ৩ নেতা কারাগারে
নিহত মনোয়ারুল ইসলাম বকশী গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ হাতিবান্ধা গ্রামের জাফর বকশীর ছেলে। বাবার চাকরির সূত্রে তিনি সাভারের বিপিএটিসি স্টাফ কোয়ার্টারে বসবাস করতেন।
দুই তদন্ত কমিটি
পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক বলেন, ঘটনাটি তদন্তে ঢাকা ও রংপুরে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযানে অংশ নেওয়া পীরগাছা থানার চার পুলিশ সদস্যকে রংপুর পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, পীরগাছা থানার পুলিশকে সহযোগিতা করতে এসআই আব্দুল হাইসহ দুজন কনস্টেবল ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন।
