×

ফলাফল

বড় ধস এইচএসসির ফলে

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৭ এএম

বড় ধস এইচএসসির ফলে

ছবি : সংগৃহীত

২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা—দুটিই কমেছে। দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এবার পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশে, যা গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী।

গত এক দশকের ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৬ সালে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৭২ শতাংশ। ২০১৭ সালে তা কমে ৬৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং ২০১৮ সালে ৬৪ দশমিক ৬৭ শতাংশে নেমে আসে। ২০১৯ সালে আবার বেড়ে পাসের হার দাঁড়ায় ৭২ শতাংশে।

২০২০ সালে করোনা মহামারির কারণে বিশেষ মূল্যায়ন পদ্ধতিতে শতভাগ শিক্ষার্থীকে উত্তীর্ণ ঘোষণা করা হয়। ২০২১ সালেও পাসের হার ছিল ৯৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ। তবে পরবর্তী বছরগুলোতে পাসের হার কমতে থাকে। ২০২২ সালে ৮৪ দশমিক ৩১ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৭৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৭৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেন। সর্বশেষ ২০২৫ সালে পাসের হার ছিল ৫৭ দশমিক ১২ শতাংশ।

জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যাও কমেছে

গত এক দশকে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যায়ও বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে। ২০১৬ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৫৮ হাজার ২৭৬ জন। ২০১৭ সালে এ সংখ্যা ছিল ৩৭ হাজার ৭২৬ এবং ২০১৮ সালে ২৯ হাজার ২৬২ জন। ২০১৯ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪১ হাজার ৮০৭ জনে।

২০২০ সালে বিশেষ মূল্যায়ন পদ্ধতির কারণে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ৬১ হাজার ৮০৭ জনে। ২০২১ সালে এ সংখ্যা আরও বেড়ে হয় ১ লাখ ৮৯ হাজার ১৬৯ জন, যা গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০২২ সালে জিপিএ-৫ পান ১ লাখ ৭৬ হাজার ২৮২ জন।

এরপর ২০২৩ সালে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে ৯২ হাজার ৫৯৫ জনে নেমে আসে। ২০২৪ সালে তা বেড়ে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯১১ জন হলেও ২০২৫ সালে আবার কমে দাঁড়ায় ৬৯ হাজার ৯৭ জনে। চলতি বছর এ সংখ্যা আরও কমে ৪০ হাজার ৮৪ জনে দাঁড়িয়েছে।

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডেও কমেছে জিপিএ-৫

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ফলাফলেও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ওঠানামা করেছে। ২০১৬ সালে এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ২ হাজার ৪২৩ জন। ২০১৭ সালে ১ হাজার ৮১৫ জন, ২০১৮ সালে ১ হাজার ২৫১ জন এবং ২০১৯ সালে ২ হাজার ২৪৩ জন জিপিএ-৫ পান।

২০২০ সালে এ সংখ্যা বেড়ে ৪ হাজার ৪৮ জন এবং ২০২১ সালে ৪ হাজার ৮৭২ জনে দাঁড়ায়। ২০২২ সালে তা এক লাফে বেড়ে হয় ১৫ হাজার ৪৫৭ জন। পরের বছর ২০২৩ সালে কমে ৭ হাজার ৯৭ জনে নেমে আসে। ২০২৪ সালে আবার বেড়ে ৯ হাজার ৬১৩ জন হলেও ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৪ হাজার ২৬৮ জনে। গত বছরের তুলনায় এ সংখ্যা কমেছে ৫ হাজার ৩৪৫ জন।

পরীক্ষায় অংশ নেন ১২ লাখ ৭০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী

এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছিলেন ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থী ছিলেন ৯২ হাজার ৯০৫ জন। তাঁদের মধ্যে ছাত্র ৫২ হাজার ১১ জন এবং ছাত্রী ৪০ হাজার ৮৯৪ জন।

তবে এবারের পরীক্ষায় প্রায় ২২ থেকে ২৫ হাজার শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন।

গত ২ জুলাই চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা ছিল ৮ আগস্ট। তবে বন্যার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি বিষয়ের লিখিত পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ায় ওই বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৯ সেপ্টেম্বর।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

 ১৩৯ প্রতিষ্ঠানে সব শিক্ষার্থী পাশ

১৩৯ প্রতিষ্ঠানে সব শিক্ষার্থী পাশ

এবার জিপিএ-৫ এ এগিয়ে ছেলেরা

এবার জিপিএ-৫ এ এগিয়ে ছেলেরা

আমরা জনগণের অধিকার আদায় করেই ছাড়বো: শফিকুর রহমান

আমরা জনগণের অধিকার আদায় করেই ছাড়বো: শফিকুর রহমান

ফেল করা শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা এক মাসের মধ্যে: শিক্ষামন্ত্রী

ফেল করা শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা এক মাসের মধ্যে: শিক্ষামন্ত্রী

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App