ফেল করা শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা এক মাসের মধ্যে: শিক্ষামন্ত্রী
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা এক মাসের মধ্যে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষার্থীদের যেন একটি বছর নষ্ট না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এবার এক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে ২ লাখ ৯৮ হাজার ৪০ জন এবং দুই বিষয়ে ফেল করেছে ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৬৫ জন। সব মিলিয়ে এক ও দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫। এবার মোট অকৃতকার্য হয়েছে ৫ লাখ ৯৪ হাজার ৪১৩ জন।
তিনি বলেন, ‘যারা এক ও দুই বিষয়ে অনুত্তীর্ণ হয়েছে, তাদের পরীক্ষা আমরা এক মাসের মধ্যে নিয়ে নেব। তাহলে যেন তাদের আগামী দিনে আর একটি বছর নষ্ট না হয়। এটি হচ্ছে আমাদের পরবর্তী পরিকল্পনা।’
পরীক্ষার সময় নির্ধারণ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সাত বা ১৫ দিনের মধ্যে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হলেও এতে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির ঘাটতি থাকতে পারে। অন্যদিকে, পরীক্ষা পিছিয়ে দিলে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ভর্তি কার্যক্রমে প্রভাব পড়বে। তাই শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই পরীক্ষার সময় নির্ধারণ করা হবে। তবে এক মাসের বেশি সময় দেওয়া সম্ভব হবে না।
খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন ১ থেকে ৭ নভেম্বর
এসএসসি পরীক্ষার খাতা পুনর্নিরীক্ষণের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী জানান, আগামী ১ থেকে ৭ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন করতে হবে। আবেদন পাওয়ার পর খাতা পুনর্নিরীক্ষণ করা হবে।
তিনি বলেন, গত এসএসসি পরীক্ষায় প্রায় ১৩ লাখ খাতা পুনর্নিরীক্ষণের জন্য জমা পড়েছিল। সেগুলো যাচাইয়ের পর ৪৫ হাজার শিক্ষার্থীর গ্রেড পরিবর্তন হয়। প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করে এবং ৩ হাজার ৭৯ জন অতিরিক্ত জিপিএ-৫ পায়।
পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন ও ফল প্রকাশে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। পরীক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং খাতা মূল্যায়নে গুরুতর ভুল হলে তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আগামী দিনে স্বচ্ছভাবে পরীক্ষা নেওয়া এবং সঠিক ফল প্রকাশ নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চান, যে যা করেছে তার সঠিকভাবে মূল্যায়িত হওয়া। কাউকে যেন অবমূল্যায়িত করা না হয়। স্বচ্ছ ফল আমাদের দিতে হবে।’
শিক্ষার্থীদের শেখার ঘাটতি পূরণে কাজ করবে মন্ত্রণালয়
এবারের ফলাফলে শিক্ষার্থীদের শেখার ক্ষেত্রে ঘাটতি দেখা গেছে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এটি বাস্তব চিত্র। এসব ঘাটতি কীভাবে পূরণ করা যায়, তা নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ড কাজ করবে। এ ক্ষেত্রে অভিভাবক ও শিক্ষকদেরও সহযোগিতা প্রয়োজন।
পাসের হার কমে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, গত বছর এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এবার তা কমে দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশে। পাসের হার কমে যাওয়াকে তিনি সন্তোষজনক মনে করেন না। শিক্ষার্থীদের শেখার পদ্ধতি, অভিভাবকদের ভূমিকা ও শিক্ষার পরিবেশসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করে ঘাটতিগুলো চিহ্নিত করতে হবে।
কোন বিষয়ে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, ইংরেজিতে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫২৮ জন এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে ১৩ হাজার ৮৪৯ জন ফেল করেছে। ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা কাটাতে শিক্ষক প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠান নিয়ে ভাবছে মন্ত্রণালয়
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এবার শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও বেড়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে মন্ত্রণালয় পর্যালোচনা করবে। প্রয়োজনে আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত করা যায় কি না, তা বিবেচনা করা হবে। তবে এ প্রক্রিয়ায় শিক্ষকদের চাকরি যাবে না বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি বাড়াতে হবে, বাড়িতে নিয়মিত পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে এবং মোবাইল আসক্তি ও মাদক থেকে দূরে থাকতে হবে। শিক্ষার্থীরাই জাতির ভবিষ্যৎ। তাদের গুরুত্ব বিবেচনায় সরকার শিক্ষা খাতে বরাদ্দও বাড়িয়েছে।
আগের বছরগুলোতে পাসের হার বেশি থাকার বিষয়ে তদন্ত করা হবে কি না, জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, খাতা মূল্যায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুনর্নিরীক্ষণের পর ফলাফলে কোনো ত্রুটি ছিল কি না, তা আরও স্পষ্ট হবে। পরীক্ষক ও শিক্ষকদের কোনো ঘাটতি ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ সবাই পাবে
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে জিপিএর শর্ত শিথিল করা হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কোন বিশ্ববিদ্যালয় কী পরিমাণ মান বজায় রেখে শিক্ষার্থী ভর্তি করবে, সেটি তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। তবে ভর্তি হওয়ার সুযোগ সবাই পাবে।
তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ মিলিয়ে এবার প্রায় ১৩ লাখ ৪০ হাজার আসন রয়েছে। অন্যদিকে, পাস করেছে প্রায় ১২ লাখ শিক্ষার্থী।
এনসিটিবির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এবং প্রশ্নপত্র ও খাতা মূল্যায়নে অনিয়মের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের সংশোধনীর মাধ্যমে এসব বিষয় খতিয়ে দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। খাতা মূল্যায়নে পরীক্ষকদের অনেক দুর্বলতা রয়েছে। পুনর্নিরীক্ষণে ৪৫ হাজার শিক্ষার্থীর গ্রেড পরিবর্তনের ঘটনা এর প্রমাণ।
তিনি আরও বলেন, কোথাও কোথাও এমসিকিউ প্রশ্নপত্র পরিবর্তন করা হয়েছে এবং সংঘবদ্ধভাবে ফল পরিবর্তনের অপচেষ্টা হয়েছে। এ ধরনের কিছু ঘটনা শনাক্ত করা হয়েছে, বাকিগুলোও খতিয়ে দেখা হবে। পরীক্ষা পদ্ধতি, শিক্ষা বোর্ড, পরীক্ষক ও প্রশ্নপত্র ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন পর্যায়ে দীর্ঘদিনের দুর্বলতা রয়েছে। সেগুলো পর্যায়ক্রমে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
