ডেঙ্গু প্রতিরোধে চসিক মেয়রকে খোলা চিঠি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সমাজকর্মী ও গণমাধ্যমকর্মী মুহাম্মদ আবু আবিদ। ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক খোলা চিঠিতে এ আহ্বান জানান আবু আবিদ। চিঠিতে নিজের সাম্প্রতিক সড়ক দুর্ঘটনা, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডেঙ্গু রোগীদের জন্য বেড সংকটের অভিজ্ঞতা এবং চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ে উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন তিনি।
চিঠিতে আবু আবিদ বলেন, ‘রাস্তা সংস্কার পরে হলেও, ডেঙ্গু প্রতিরোধে দ্রুত কিছু করুন।’
মেয়রের উদ্দেশে তিনি আরও লেখেন, দেশের বাইরে অবস্থান করেও তাঁর সড়ক দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়ায় মেয়রকে ধন্যবাদ। এ মানবিকতার কথা তিনি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।
আবিদ জানান, চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে সড়ক দুর্ঘটনার পর তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তৃতীয় দিনে হালিশহরের এক বন্ধু এসে জানান, তাঁর বোন ও খালা ডেঙ্গু পজিটিভ হয়েছেন এবং জরুরি ভিত্তিতে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা প্রয়োজন।
এরপর পরিচিতদের মাধ্যমে চট্টগ্রামের প্রায় সব বেসরকারি হাসপাতালে যোগাযোগ করেও তাদের জন্য একটি কেবিন বা বেডের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।
আবিদ বলেন, যে হাসপাতালে তিনি নিজে ভর্তি ছিলেন, সেটি তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল হওয়ায় সাধারণ সময়ে সেখানে কেবিন বা বেড পাওয়া যায়। কিন্তু সেদিন পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। প্রায় সব বেডই পূর্ণ ছিল এবং তাঁর ছাড়া অধিকাংশ রোগীই ছিলেন ডেঙ্গু আক্রান্ত।
খোলা চিঠিতে চট্টগ্রামের ডেঙ্গু পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে, হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বাড়ছে। পাশাপাশি মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো চিকিৎসার ব্যয় সামলাতে গিয়ে আর্থিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে।
হালিশহরের সড়কের দুর্ভোগ নিয়ে এর আগে মেয়রকে খোলা চিঠি দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে আবিদ বলেন, তখন মেয়র দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে সড়কের কাজের গতি বাড়িয়েছিলেন। এ জন্যও তিনি মেয়রকে ধন্যবাদ জানান।
তবে এবার তিনি বলেন, সড়ক সংস্কারের কাজ কিছুদিন ধীরগতিতে হলেও মানুষ তা সহ্য করতে পারবে। কিন্তু ডেঙ্গুর কারণে যেন আর কোনো প্রাণহানি না ঘটে। তাঁর ভাষায়, ‘রাস্তা সংস্কারের কাজ কিছুটা পিছিয়ে গেলেও তা সহ্য করা সম্ভব, কিন্তু ডেঙ্গুর কারণে একটি প্রাণহানিও মেনে নেওয়া যায় না।’
মেয়র নিজেও চিকিৎসক হওয়ায় ডেঙ্গুর ভয়াবহতা ও একজন রোগীর জন্য এর ঝুঁকি ভালোভাবে বোঝেন বলেও উল্লেখ করেন আবিদ।
নিজের পরিবারের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, তাঁর বাবা পরপর দুবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। আর তিনি নিজেও গুরুতর সড়ক দুর্ঘটনার পর এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেননি। এ অবস্থায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে তাঁর শরীর সেটি কতটা সামলাতে পারবে, তা নিয়েও তিনি উদ্বিগ্ন।
আবিদ বলেন, তাঁর এ খোলা চিঠি কোনো অভিযোগ নয়, বরং একজন নাগরিকের আবেদন। প্রয়োজনে অন্য কোনো উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ সাময়িকভাবে ধীর করে হলেও ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও মশক নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এ জন্য প্রতিটি ওয়ার্ড, পাড়া ও মহল্লায় তরুণদের সম্পৃক্ত করে মশক নিয়ন্ত্রণ কমিটি গঠন, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান, জমে থাকা পানি অপসারণ, মশার লার্ভা ধ্বংস এবং জনসচেতনতা কার্যক্রম জোরদারের প্রস্তাব দেন আবিদ।
খোলা চিঠির শেষদিকে তিনি বলেন, মশক নিয়ন্ত্রণে কীভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে, সেটি মেয়র ঠিক করবেন। তবে দ্রুত পদক্ষেপ দেখতে চান তারা। তাঁর মতে, রাস্তার ভোগান্তি মানুষ সহ্য করতে পারবে, কিন্তু একটি জীবন হারিয়ে গেলে কোনো রাস্তা, প্রকল্প বা উন্নয়ন দিয়েই সেই ক্ষতি পূরণ করা সম্ভব নয়।
