ভেনেজুয়েলা ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫০০
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০৮:৩৩ এএম
ছবি : সংগৃহীত
ভেনেজুয়েলায় পরপর দুই দফা শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রাণহানির সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। সর্বশেষ সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৫০০ জনে পৌঁছেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া হাজারো মানুষকে উদ্ধারে দেশি-বিদেশি উদ্ধারকর্মীরা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। এদিকে জীবিত কয়েকজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হওয়ায় স্বজনদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত উপকূলীয় রাজ্য লা গুয়াইরা। সেখানে শত শত ভবন ধসে পড়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৭৭৪টি ভবন সম্পূর্ণভাবে ধসে গেছে।
অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ বলেছেন, জীবিত মানুষ উদ্ধারের সম্ভাবনা থাকায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে। ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলো বসবাসের উপযোগী কি না, তা যাচাই করতে একটি বিশেষ কমিশন গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি লা গুয়াইরায় আরো এক সপ্তাহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে সরকার।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ১৫০ জন আহত হয়েছেন এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১২ হাজার ৭২১ জন। শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অন্তত ৩৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার ধসে পড়া একটি ভবনের নিচ থেকে এক বাবা ও তার ছেলেকেও জীবিত উদ্ধার করেন উদ্ধারকর্মীরা।
আরো পড়ুন : ভেনিজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পের ৮৫ ঘণ্টা পর দুই শিশু জীবিত উদ্ধার
অন্যদিকে বিরোধীদল-সমর্থিত একটি ওয়েবসাইট দাবি করেছে, এখনও প্রায় ৫০ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। আফটারশক অব্যাহত থাকায় উদ্ধার অভিযান আরো কঠিন হয়ে পড়েছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ২৪ জুন ভেনেজুয়েলায় ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে আঘাত হানে। গত ১২৫ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটিই দেশটির সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প।
এর আগে ২০১০ সালের জানুয়ারিতে হাইতিতে একই মাত্রার ভূমিকম্পে ২ লাখের বেশি মানুষ নিহত হন। এছাড়া ২০০৫ সালের অক্টোবরে কাশ্মীরে ৭৩ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল।
