সেলিনা আহমেদের কবিতা
সেলিনা আহমেদ
প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:১৭ পিএম
সেলিনা আহমেদের কবিতা
অগ্নিদ্রোহের প্রেম ও সাম্যের জাগরণ
এসো প্রিয়তমা—
এই দহনজ্বলা ঋতুর রক্তিম উল্লাসে
আমরা জ্বেলে তুলি অবদমিত আকাঙ্ক্ষার প্রদীপ,
তোমার চোখে আমি দেখি বিদ্রোহের নীল বিদ্যুৎ,
আর আমার বুকে জেগে ওঠে অনল-অভিষেকের প্রতিজ্ঞা।
আমাদের শিরায় আজ আর নিস্তেজ সময় নয়,
বয়ে চলে অগ্নিস্রোতের দুর্বার উন্মাদনা—
যা ভেঙে দিতে চায় শাসনের পাথরকঠিন প্রাচীর,
যা মুছে দিতে চায় অন্যায়ের প্রাচীন লিপি।
যারা মিথ্যা গৌরবের মুকুট পরে
মানবতাকে বন্দী করে রেখেছে অন্ধকারে,
তাদের সেই অচল সিংহাসনের নিচে
আমরা পুঁতে দিই বজ্রের বীজ,
যা একদিন বিস্ফোরিত হয়ে ছিন্ন করবে সব শেকল।
প্রতিটি অপমানিত স্বপ্ন আজ জেগে ওঠে অস্ত্র হয়ে,
প্রতিটি রুদ্ধ কণ্ঠ হয়ে ওঠে মহাকালের বজ্রধ্বনি—
যা ছিঁড়ে ফেলে নীরবতার জীর্ণ আবরণ,
আর লিখে দেয় মুক্তির নতুন সংবিধান।
যখন শৃঙ্খলগুলো নিজেদেরই সুরে কাঁদে,
আমাদের নীরবতা তখন আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়ে—
একটি চিৎকারে কেঁপে ওঠে আকাশ ও ইতিহাস,
কারণ আমরা আর নত নই, আর ভীত নই।
এই বিদ্রোহ কোনো ক্ষণিক আবেগ নয়,
এ এক শাশ্বত প্রতিজ্ঞা—
অন্যায়ের হৃদয়ে বিঁধে থাকা অগ্নিশলাকা,
যার আলোয় জন্ম নেবে এক নতুন ভোর।
ধ্বংসস্তূপের ছাই থেকে উঠে আসবে সমতার সূর্য,
যেখানে মানুষের পরিচয় হবে কেবল মানুষ,
যেখানে রক্ত আর ঘাম মিলেমিশে
রচনা করবে নতুন পৃথিবীর মহাকাব্য।
আর সেই দিন, প্রিয়তমা—
আমাদের এই দহন, এই দ্রোহ, এই প্রেম
পরিণত হবে ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ জাগরণে,
যেখানে স্বাধীনতাই হবে একমাত্র সত্য,
আর মানবতাই শেষ আশ্রয়।
