বাংলাদেশকে উড়িয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিশোধ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৫:৩৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারানো যে সহজ হবে না, তা আগে থেকেই জানা ছিল বাংলাদেশের। তবে সফরকারীরা কতটা দাপট দেখাবে, সেটিই ছিল দেখার বিষয়। শেষ পর্যন্ত সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে পুরো সিরিজজুড়েই অসহায় আত্মসমর্পণ করতে হলো স্বাগতিকদের।
ওয়ানডে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে হারার জবাব টি-টোয়েন্টিতে দারুণভাবেই দিল অস্ট্রেলিয়া। তিন ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করার পাশাপাশি ২০২১ সালে বাংলাদেশের মাটিতে ৪-১ ব্যবধানে টি-টোয়েন্টি সিরিজ হারের আক্ষেপও মিটিয়ে নিল মিচেল মার্শের দল।
চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সিরিজের শেষ ম্যাচে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ ৮ উইকেটে তোলে মাত্র ১০৯ রান। জবাবে অস্ট্রেলিয়া মাত্র ১১ ওভারেই ৩ উইকেট হারিয়ে জয় নিশ্চিত করে। ৭ উইকেটের এই জয় টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম হোয়াইটওয়াশের রেকর্ড গড়ে দেয়।
সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৪ উইকেট ও দ্বিতীয় ম্যাচে ৭ রানে জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া। তবে শেষ ম্যাচে তারা আরও বেশি আধিপত্য দেখিয়ে নিজেদের শক্তিমত্তার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে।
হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটিং ছিল হতাশাজনক। শুরু থেকেই একের পর এক ব্যাটসম্যান উইকেটে এসে দ্রুত বিদায় নিয়েছেন। দায়িত্বশীল ইনিংস কিংবা প্রতিরোধ গড়ার মানসিকতা- কোনোটিই চোখে পড়েনি। ফলে রান সংগ্রহের চেয়ে উইকেট হারানোর মিছিলই যেন দীর্ঘ হয়েছে।
দলের হয়ে একমাত্র ব্যতিক্রম ছিলেন অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়। তিনি ৫১ বলে ৩টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৬১ রানের লড়াকু ইনিংস খেলেন। এছাড়া রিশাদ হোসেন করেন ১৬ রান। বাকি কোনো ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি।
পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল মাত্র ২২ রান, হারায় ৩ উইকেট। মাত্র ৩৬ রানে সাজঘরে ফিরে যান দলের পাঁচ ব্যাটসম্যান। তানজিদ হাসান (৫), সাইফ হাসান (১), পারভেজ হোসেন ইমন (১), নুরুল হাসান সোহান (৬) ও শামীম হোসেন (০) ব্যর্থ হন।
ষষ্ঠ উইকেটে তাওহীদ হৃদয় ও রিশাদ হোসেন কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে ২০ বলে ২৬ রান যোগ করেন। তবে রিশাদ আউট হওয়ার পর আবারও চাপে পড়ে বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত তাওহীদের একক লড়াইয়ে দলীয় সংগ্রহ কোনোভাবে তিন অঙ্ক পার করে। এই ইনিংসের পথে তিনি তুলে নেন নিজের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের সপ্তম অর্ধশতক।
অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মধ্যে স্পেন্সার জনসন ছিলেন সবচেয়ে কৃপণ। আগের ম্যাচে ২ ওভারে ৩৯ রান দেওয়া এই পেসার এবার ৪ ওভারে মাত্র ৬ রান খরচ করে ২ উইকেট শিকার করেন। টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৪ ওভারে সর্বনিম্ন রান দেওয়ার রেকর্ড অবশ্য এখনও নিউ জিল্যান্ডের ড্যানিয়েল ভেটরির দখলে, যার বোলিং ফিগার ছিল ৪-১-৬-৩। এছাড়া ন্যাথান এলিস ও অ্যাডাম জাম্পাও নেন দুটি করে উইকেট।
১১০ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে অস্ট্রেলিয়া। অধিনায়ক মিচেল মার্শ ৭ চার ও ৪ ছক্কায় মাত্র ২৮ বলে ৬০ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন। জস ইংলিশ করেন ১৭ রান, কুপার কনোলি যোগ করেন ১৫। আর টিম ডেভিড ৩ বলে ১২ রান করে দ্রুত ম্যাচ শেষ করে দেন।
বাংলাদেশের বোলাররাও ব্যাটসম্যানদের মতোই নিষ্প্রভ ছিলেন। তাসকিন আহমেদ ২ ওভারে ২৭ রান, রিশাদ ২ ওভারে ২২ রান এবং নাহিদ রানা এক ওভারে ২০ রান খরচ করেন। ফলে পুরো ম্যাচজুড়েই বাংলাদেশকে দেখা গেছে অসহায় এক দলের ভূমিকায়।
ম্যাচসেরা হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক মিচেল মার্শ। আর সিরিজসেরার পুরস্কার উঠেছে ম্যাট রেনশের হাতে।
